একটা লাশ দিয়ে আরেকটা লাশ ঢেকে দেওয়া—এটাই রাজনীতির সবচেয়ে নিষ্ঠুর অঙ্ক। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবারও দেখিয়ে দিল, মৃত্যুর প্রকৃত মূল্য আজ মানুষের নয়, বরং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ হাদির মৃত্যুতে জাতির বিবেক কাঁপবে—এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু অদ্ভুতভাবে তার থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এল দীপু দাসের মৃত্যু। কারো প্রাণকে ছোট করা নয়—সব মৃত্যুই সমান বেদনার। তবু প্রশ্ন জাগে—
কেন এক মৃত্যু হয় জাতীয় ইস্যু
আর অন্যটি স্রেফ খবরের ফুটনোট?
রাজনীতির নিষ্ঠুর অঙ্ক এখানে স্পষ্ট। এক মৃত্যুকে আরেক মৃত্যুর আড়ালে চাপা দিতে পারলে রাজনৈতিক লাভ পাওয়া যায়। এরই প্রতিফলন আমরা বারবার দেখেছি।
উড়িষ্যায় প্রশাসনের চোখের সামনে সম্পূর্ণ একটি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হলো—মানবতাবিরোধী এমন ঘটনার প্রতিবাদ হওয়া উচিত ছিল সর্বস্তরে। অথচ বিস্ময়কর নীরবতা। অন্যদিকে, ঠিক আগের মাসে মুর্শিদাবাদের একটি ঘটনার পর যে রাজনৈতিক ঝড় বয়ে গিয়েছিল, তার সঙ্গে তুলনা করলে বৈষম্যটি আরও প্রকট হয়।
তবে কি ঘটনা নয়,
ঘটনার রাজনৈতিক ব্যবহারই নির্ধারণ করছে গুরুত্ব?
গবেষণায় দেখা যায়, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের আলোচনার প্রায় ৭০–৮০ শতাংশ নির্ভর করে—
কে অভিযুক্ত
কোন বয়ান তৈরি করা যাবে
কোন ঘটনাকে দিয়ে আরেকটি ঘটনাকে আড়াল করা যাবে
এভাবেই রাজনীতির কালো হাত নীরবে, দক্ষভাবে কাজ করে।
একটি মৃত্যু দিয়ে আরেকটি মৃত্যুর চিৎকার ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
একটি আগুনে পোড়া গ্রামের আর্তনাদ ঢেকে যায় পরিকল্পিত হ্যাশট্যাগের শব্দে।
সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—
আমরা, সাধারণ মানুষ, ধীরে ধীরে এই খেলায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।
আমরা ক্ষুব্ধ হই—তবে নির্বাচিত ক্ষোভে।
আমরা শোক করি—তবে বেছে বেছে।
হাদি, দীপু, মুর্শিদাবাদ, উড়িষ্যা—নাম বদলাবে, স্থান বদলাবে।
যদি প্রশ্ন না করি, আগামীকাল হয়তো আপনার পাশের মানুষটিও হয়ে উঠবে “পরিস্থিতিগত লাশ”—রাজনৈতিক ব্যবহারযোগ্য উপাদান।
এ সম্পাদকীয় কোনো দল, ধর্ম বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়।
এ লেখা নির্বাচিত শোক, পরিকল্পিত ক্ষোভ, এবং ব্যবহৃত মৃত্যুর রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
আজ যদি শুভবুদ্ধি জাগে,
আগামীকাল আর কোনো মৃত্যু দিয়ে আরেকটি মৃত্যু আড়াল করা যাবে না।
ভাবুন। প্রশ্ন করুন। কারণ নীরবতাই রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি।
Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.