Tranding
রাজ্যের খবর / October 19, 2025

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন : সংখ্যালঘু ভোটেই নির্ধারিত হতে পারে ক্ষমতার ভাগ্য

কলকাতা, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ :

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে, রাজ্যের ভবিষ্যৎ শাসনক্ষমতার রাশ অনেকটাই নির্ভর করবে সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাংকের উপর। ২০১১ সালের জনগণনা, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল, রাজনৈতিক সমীক্ষা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত এক অনুমাননির্ভর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রায় ১২০–১২৫টি আসনে মুসলিম ভোটারদের হার ৩০ শতাংশ বা তার বেশি। এ আসনগুলিতেই নির্ধারিত হতে পারে কে বসবেন নবান্নের মসনদে।

জেলা-ভিত্তিক মুসলিম ভোটারদের হার ও প্রভাবশালী বিধানসভা আসনসমূহ :

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলিম জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং ভোটারের ভূমিকা নিম্নরূপ :

মুর্শিদাবাদ (৬৫%–৮৫%) : Farakka, Suti, Sagardighi, Domkal, Naoda, Hariharpara, Berhampore, Murshidabad সহ ২১টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট নির্ণায়ক।

মালদা (৪০%–৭৫%) : Harishchandrapur, Ratua, Manikchak, Sujapur, Kaliachak–1/2/3 সহ ১৪টি আসনে মুসলিম ভোট ব্যতিক্রমী প্রভাব ফেলতে পারে।

উত্তর দিনাজপুর (৫০%–৬৫%) : Chopra, Islampur, Goalpokhar সহ ৭টি আসন মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত।

বীরভূম (৩৫%–৫০%) : Murarai, Nalhati, Mahammad Bazar, Labhpur প্রভৃতি ৮টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটের ওজন উল্লেখযোগ্য।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩০%–৫৫%) : Canning, Basanti, Bhangar, Joynagar, Diamond Harbour সহ ১৬টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট তীব্রভাবে প্রাসঙ্গিক।

উত্তর ২৪ পরগনা (২৫%–৭৫%) : Basirhat, Baduria, Deganga, Hingalganj সহ ৮টি আসনে মুসলিম ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নদিয়া (৩০%–৪৫%) : Tehatta, Krishnanagar, Chapra, Karimpur সহ ৬টি আসন।

হাওড়া (২৫%–৬০%) : Uluberia, Sankrail, Panchla, Domjur সহ ৭টি আসন।

কলকাতা (২৫%–৫০%) : Metiabruz, Garden Reach, Entally, Ballygunge সহ ৫টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকা সরাসরি প্রভাব ফেলবে ফলাফলে।

এই তালিকা থেকে স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারগণ প্রায় ৪০% বিধানসভা আসনে ‘কিংমেকার’-এর ভূমিকা পালন করতে পারেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য ও প্রস্তুতি :

বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচনে কমপক্ষে ২২৫+ আসন জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে ১২০–১২৫টি সংখ্যালঘু ভোটপ্রধান আসন রয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করে, এই আসনগুলির মধ্যে প্রায় ১০০টি আসনে তাদের অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তারা সহজেই এগুলি থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে।

তবে এবারের নির্বাচনে দল যে একাধিক দিক থেকে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া চালু করেছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সূত্র অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ১০০টি আসনে বর্তমান বিধায়কদের বদলে নতুন মুখ প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল :

বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা

জনসংযোগে ঘাটতি ও জনপ্রিয়তার অভাব

দুর্নীতি, তোলাবাজি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িত থাকার প্রমাণ

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই শুদ্ধিকরণ এবং প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং আগামী নির্বাচনে জনগণের আস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

শেষ কথা :

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ থাকলে, তারা ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার ভোটব্যাংক কার দিকে ঝুঁকবে – তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম না কি বিজেপি বিরোধী জোট – সেটিই আগামী নির্বাচনের মূল নিয়ামক হতে চলেছে।

২০২৬-এর নির্বাচন শুধু তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রেরও এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.