মৃত্যুগরাদে তিয়াত্তরতম জন্মদিন : (গৌতম ভট্টাচার্য )
ক্রিকেটবিশ্ব বরাবর যা জানত , আমরাও তাই জেনে এসেছি যে ২৫ নভেম্বর ওঁর জন্মদিন। সেই অনুযায়ী ১৯৮৯ ফয়সালাবাদ টেস্টের এক সকালে আমি ও মুদার পাথেরিয়া পাক অধিনায়কের ঘরে শুভেচ্ছা জানাতে ঢুকি। একজনের হাতে ওঁর প্রিয় ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক। একজনের হাতে গোবিন্দ নিহালিনী পরিচালিত তমসের ভিডিও ক্যাসেট। ইমরান খান খুব খুশি হয়ে নিয়েছিলেন। বসে আড্ডা মারার কোনো সুযোগই ছিল না। একটু পরে তো টিম বাসে ওঁকে বেরোতে হবে। কিছু পরে ভারতীয় দলও মাঠে শুভেচ্ছা জানাল।
পরে জেনেছি ইমরানের জন্মদিন আসলে ৫ অক্টবর। বার্থ সার্টিফিকেটে ভুল ডেট কেউ দিয়েছিল । আজ ইমরানের ছেলের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখে আরও নিশ্চিত হচ্ছি। কাশিম খান তাঁর বাবাকে ৭৩তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখছেন , ৭৯০ দিন একটা মানুষ ডেথ সেলে কাটিয়ে দিচ্ছেন। আইনজীবী ছাড়া। ডাক্তার ছাড়া। পরিবার ছাড়া। তবু তাঁর স্পিরিট ভেঙে পড়েনি।
এশিয়া কাপ চলাকালীন দুবাই থেকে নির্ভরযোগ্য পাকিস্তানী সূত্র জানাল , আন্তর্জাতিক মহল থেকে যেহেতু ইমরানকে গরাদমুক্ত করার চাপ বাড়ছে ,পাকিস্তান দেশটা যিনি চালান সেই সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির তিনবার নাকি কারাগারে নিজস্ব দূত পাঠিয়েছেন। প্রস্তাব মেনে নিন। সসম্মানে ইংল্যান্ড চলে যান। সরকার সবরকম ব্যবস্থা করবে। প্রাক্তন উজির এ আজম রাজি হননি। ওঁর উত্তর শুনে আমাকে দশ বছর আগে দেওয়া ইন্টারভিউ মনে পড়ল যে চলে যাওয়ার সময় যেন মিউমিঁউ না ডেকে বাঘের মতো যাই।
এখন ভারত-পাক ক্রিকেটেও যা আবহ তাতে ভাবলে মহাজাগতিক মনে হয় যে সাতাশির বিশ্বকাপের এবিপি ক্রিকেট ক্রোড়পত্রে গাভাস্কর-ইমরান একসঙ্গে কভারের ছবি দেওয়ার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে ত্যাগ করে সম্পাদক বলেছিলেন ,শুধু ইমরান থাক। কারণ তার দু ' সপ্তাহ আগে ' সানডে ' ম্যাগাজিনের কভারে ইমরানের ছবি দেখা মাত্র তখনকার বম্বে ডাইংসের মালিকের মেয়ে পাঁচ কপি ' সানডে ' এক্সট্রা কিনেছিলেন।
আজ ঠিক উল্টো ,কভারে পাকিস্তান থাকলে নতুন সময়ের ভারত শুধু প্রত্যাখ্যান করবে না। তেমন প্ররোচনা তৈরি হলে কোনো কোনো চরমপন্থী মহল কপি জ্বালিয়েও দিতে পারে।
অনেকের মুখে শুনি কী দরকার ছিল রাজনীতিতে যাওয়ার ? দিব্যি লন্ডনের বুকে রাজসিক জীবন চলত। অবসর জীবনে ঘুরে বেড়াতেন ভূমধ্যসাগরের ওপর ইয়টে। ব্রাজিলের জঙ্গলে যেতেন ওয়াইল্ড লাইফের প্যাশন জারি রাখতে। সেখান থেকে আদিয়ালা জেলে জন্মদিনেও মৃত্যূর অপেক্ষায় থাকা সেলে।
কিন্তু এজন্যই ইমরান। এজন্যই না সাংবাদিক জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা।
(গৌতম ভট্টাচার্য )
ক্রিকেটবিশ্ব বরাবর যা জানত , আমরাও তাই জেনে এসেছি যে ২৫ নভেম্বর ওঁর জন্মদিন। সেই অনুযায়ী ১৯৮৯ ফয়সালাবাদ টেস্টের এক সকালে আমি ও মুদার পাথেরিয়া পাক অধিনায়কের ঘরে শুভেচ্ছা জানাতে ঢুকি। একজনের হাতে ওঁর প্রিয় ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক। একজনের হাতে গোবিন্দ নিহালিনী পরিচালিত তমসের ভিডিও ক্যাসেট। ইমরান খান খুব খুশি হয়ে নিয়েছিলেন। বসে আড্ডা মারার কোনো সুযোগই ছিল না। একটু পরে তো টিম বাসে ওঁকে বেরোতে হবে। কিছু পরে ভারতীয় দলও মাঠে শুভেচ্ছা জানাল।
পরে জেনেছি ইমরানের জন্মদিন আসলে ৫ অক্টবর। বার্থ সার্টিফিকেটে ভুল ডেট কেউ দিয়েছিল । আজ ইমরানের ছেলের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখে আরও নিশ্চিত হচ্ছি। কাশিম খান তাঁর বাবাকে ৭৩তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখছেন , ৭৯০ দিন একটা মানুষ ডেথ সেলে কাটিয়ে দিচ্ছেন। আইনজীবী ছাড়া। ডাক্তার ছাড়া। পরিবার ছাড়া। তবু তাঁর স্পিরিট ভেঙে পড়েনি।
এশিয়া কাপ চলাকালীন দুবাই থেকে নির্ভরযোগ্য পাকিস্তানী সূত্র জানাল , আন্তর্জাতিক মহল থেকে যেহেতু ইমরানকে গরাদমুক্ত করার চাপ বাড়ছে ,পাকিস্তান দেশটা যিনি চালান সেই সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আসিম মুনির তিনবার নাকি কারাগারে নিজস্ব দূত পাঠিয়েছেন। প্রস্তাব মেনে নিন। সসম্মানে ইংল্যান্ড চলে যান। সরকার সবরকম ব্যবস্থা করবে। প্রাক্তন উজির এ আজম রাজি হননি। ওঁর উত্তর শুনে আমাকে দশ বছর আগে দেওয়া ইন্টারভিউ মনে পড়ল যে চলে যাওয়ার সময় যেন মিউমিঁউ না ডেকে বাঘের মতো যাই।
এখন ভারত-পাক ক্রিকেটেও যা আবহ তাতে ভাবলে মহাজাগতিক মনে হয় যে সাতাশির বিশ্বকাপের এবিপি ক্রিকেট ক্রোড়পত্রে গাভাস্কর-ইমরান একসঙ্গে কভারের ছবি দেওয়ার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে ত্যাগ করে সম্পাদক বলেছিলেন ,শুধু ইমরান থাক। কারণ তার দু ' সপ্তাহ আগে ' সানডে ' ম্যাগাজিনের কভারে ইমরানের ছবি দেখা মাত্র তখনকার বম্বে ডাইংসের মালিকের মেয়ে পাঁচ কপি ' সানডে ' এক্সট্রা কিনেছিলেন।
আজ ঠিক উল্টো ,কভারে পাকিস্তান থাকলে নতুন সময়ের ভারত শুধু প্রত্যাখ্যান করবে না। তেমন প্ররোচনা তৈরি হলে কোনো কোনো চরমপন্থী মহল কপি জ্বালিয়েও দিতে পারে।
অনেকের মুখে শুনি কী দরকার ছিল রাজনীতিতে যাওয়ার ? দিব্যি লন্ডনের বুকে রাজসিক জীবন চলত। অবসর জীবনে ঘুরে বেড়াতেন ভূমধ্যসাগরের ওপর ইয়টে। ব্রাজিলের জঙ্গলে যেতেন ওয়াইল্ড লাইফের প্যাশন জারি রাখতে। সেখান থেকে আদিয়ালা জেলে জন্মদিনেও মৃত্যূর অপেক্ষায় থাকা সেলে।
কিন্তু এজন্যই ইমরান। এজন্যই না সাংবাদিক জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা।