পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অভিযানে নিহত এক ফিলিস্তিনি যুবক, ব্যাপক গ্রেপ্তার ও তল্লাশি অব্যাহত
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক রাতের অভিযান ও আটক অভিযানের মধ্যে হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলে এক ফিলিস্তিনি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মোহাম্মদ রাজিহ নাসরাল্লাহ (২০)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল-ধাহিরিয়া শহরের বাসিন্দা নাসরাল্লাহ পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ডুরা হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। পরে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, একই অভিযানের সময় আরও এক ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পাশাপাশি বেথলেহেম এলাকায় পৃথক অভিযানে অন্তত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
স্থানীয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, পশ্চিম তীর জুড়ে নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে কোনও অভিযোগ বা বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারে বন্দী রয়েছেন, যেখানে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিছু ক্ষেত্রে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেমের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলি আটক কেন্দ্রে অন্তত ৮৪ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।
এদিকে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কালকিলিয়ার পূর্বে আমাতিন গ্রামে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চালানো অভিযানে ১০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তল্লাশির সময় বাড়িঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নাবলুস এলাকায় মাদমা ও বুরিন গ্রামে ইসরাইলি সেনারা অভিযান চালিয়ে বহু বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দক্ষিণ নাবলুসের শিক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে স্কুল বন্ধ রেখে দূরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে, তুলকারেমে এক যুবককে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় গুলি করে আহত করার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। হেবরন গভর্নরেট এলাকায় পৃথক অভিযানে অন্তত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন।
এছাড়াও জেরিকোর দক্ষিণে আকবাত জাবর শরণার্থী শিবিরে অভিযানের সময় আরও দুই ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি, বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। রামাল্লাহর উত্তরে তুরমুস আয়া শহরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ২০০টি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে বহু পরিবারের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।