৪৩ বছরের পথচলার এক বিপ্লবের নাম – SIO
১৯৮২ সালের এই দিনে, এক নতুন ভাবনা, এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও এক মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেছিল স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া (SIO)। আজ, ৪৩ বছর পেরিয়ে সেই সংগঠন শুধু একটি ছাত্র সংগঠনের নাম নয়, বরং এক বিপ্লবের নাম, এক আবেগের নাম, এক ভালোবাসার নাম হয়ে উঠেছে হাজারো ছাত্র-যুবকের হৃদয়ে।
যে মিশন ও উদ্দেশ্য নিয়ে এই সংগঠনের ফরমেশন হয়েছিল, সেই লক্ষ্যপূরণে SIO আজও অবিচল। সেই সাফল্যের ছাপ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান সংগঠনের কর্মীদের জীবনে। এখানকার একজন ছাত্র শুধু ক্লাসরুমেই মেধার প্রমাণ রাখছে না, বরং সমাজের বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার হয়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার হয়েও সে আওয়াজ তোলে ন্যায়ের জন্য, অধিকারের জন্য — সে হয়ে ওঠে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর।
অর্থবিত্তের অভাব নেই, এমন সদস্যও যখন ভিক্ষার পাত্র হাতে নিয়ে সমাজের দরজায় দরজায় ছুটে বেড়ায় আর্তদের সাহায্য করার জন্য, তখন তা প্রমাণ করে — এই সংগঠনের আদর্শ কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে তা অনুশীলিত হয়।
যেখানে সমাজের একটি অংশ অবসর সময়ে আড্ডা, ভোগ-বিলাস ও অশ্লীলতার পথে ডুবে যাচ্ছে, সেখানে SIO-এর সদস্যরা স্রোতের বিপরীতে চলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা সেই সময়টুকু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ব্যয় করে। সমাজের রঙে গা ভাসানো নয়, বরং সমাজকে বদলে দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকে তারা।
আজকের দিনে যখন তথাকথিত ছাত্র সংগঠনগুলোতে পদ পাওয়ার জন্য রক্তপাত পর্যন্ত হতে দেখা যায়, সেখানে SIO-এর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখানে দায়িত্ব পাওয়া কোনো পাওনা নয়, বরং এক আমানত — যার ভারে সদস্যের চোখে চলে আসে অশ্রু।
এই প্রজন্ম যখন গভীর রাত অবধি মোবাইলের নীল আলোতে ডুবে থাকে কিংবা সামাজিক সম্পর্কের মোহে আটকে পড়ে, তখন SIO-এর একজন সদস্য রাতের নিস্তব্ধতা কাটায় তহজ্জুদের নামাজে, নিজের ও জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রভুর দরবারে কেঁদে।
আজ এই ৪৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসে, প্রিয় কাফেলা যেন সকল ছাত্র-যুবকের হৃদয়ে বন্ধনের প্রতীক হয়ে উঠুক। শুধু এই দেশ নয়, সারা বিশ্বের মাটিতে পৌঁছে যাক এই সংগঠনের জয়গাথা — পৌঁছে যাক আরশে আজীম পর্যন্ত।