শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় জনসমুদ্র, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিফলন
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা রাখা যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় শনিবার ঢাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। তাঁর শেষযাত্রাকে ঘিরে দেশজুড়ে যেমন আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়, তেমনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও।
গত ১২ ডিসেম্বর এক হত্যাচেষ্টায় গুরুতর আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শরীফ ওসমান হাদির। শুক্রবার তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানাজাকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি উঠে আসে। কাতারভিত্তিক এক সংবাদমাধ্যম তাঁকে ২০২৪ সালের ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, তাঁর স্মরণে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ জানাজায় অংশ নেন। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাঁকে দাফন করা হয়, যা তাঁর অবদানের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানায়, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় তরুণ নেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানাজা ও দাফনের সার্বিক পরিস্থিতি সরাসরি তুলে ধরে। তাদের প্রতিবেদনে জনসমাগম ও শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
এনডিটিভি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড, জিও নিউজ, আরব নিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও শহীদ হাদির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার চিত্র উঠে আসে। কিছু প্রতিবেদনে নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাঁর মৃত্যুকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজা শুধু একটি বিদায় নয়, বরং সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে দেশ ও বিদেশে আলোচিত হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত