Tranding
মধ্যপ্রাচ্য / November 21, 2025

পশ্চিম তীরের উদ্বাস্তু শিবিরে ইসরায়েলি অভিযানের এক বছর পরও ফেরার অপেক্ষায় হাজারো বাসিন্দা

পশ্চিম তীরের বিভিন্ন উদ্বাস্তু শিবিরে ইসরায়েলের টানা সামরিক অভিযানের প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো বাড়িতে ফিরতে পারেননি বহু ফিলিস্তিনি পরিবার। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল, সরকারি ভবন ও অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা এসব মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে তারা ফিরতে পারবেন নিজেদের ঘরে?

অভিযান, ধ্বংস আর দীর্ঘ অনিশ্চয়তা

গত জানুয়ারিতে ইসরায়েল উত্তর-পশ্চিম তীরের কয়েকটি উদ্বাস্তু শিবিরে বৃহৎ সামরিক অভিযান চালায়। ‘সশস্ত্র গোষ্ঠী দমনের’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে তল্লাশি, ধ্বংসযজ্ঞ ও গোলাগুলির মধ্য দিয়ে হাজারো পরিবারকে ঘরছাড়া হতে হয়।

টুলকারেম ও নুর শামস শিবির ছিল অভিযানের প্রধান কেন্দ্র। চল্লিশোর্ধ্ব হাকাম এরহেইলও সেখানে নিজের বাড়ি হারান এবং চার সন্তানকে নিয়ে এক স্কুল ভবনে ঠাঁই নেন। তিনি জানান,

“শিবিরে থেকেও আগে আমাদের জীবন স্বাভাবিক ছিল। এখন স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষেই পুরো পরিবারকে থাকতে হচ্ছে—ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সুযোগ নেই।”

১০ মাস পরও ৩২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের পর এখনো অন্তত ৩২ হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

সংস্থাটি বলেছে, উত্তর পশ্চিম তীরের তিনটি শিবিরে গত ১০ মাসে ৮৫০টিরও বেশি বাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া শিবিরগুলোর সরু গলিপথ ভেঙে প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যাতে সহজে সামরিক যান চলতে পারে।

ইসরায়েলের অবস্থান ও ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, শিবিরগুলো ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে’ পরিণত হয়েছিল, তাই অভিযান জরুরি ছিল। তবে তারা কখন উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের ফেরার অনুমতি পাবে—সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানায়নি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ,

এটি ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন, কিছু ক্ষেত্রে ‘জাতিগত নিধনের’ সামিল।

ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

নুর শামস শিবিরের বাইরে কয়েকশো বাস্তুচ্যুত মানুষ সোমবার বিক্ষোভ করেন। তারা জানান,

“যে বাড়িগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, সেগুলো না থাকলেও অন্তত জায়গাটা দেখতে চাই। ফিরতে চাই নিজের ভূমিতে।”

বিক্ষোভের সময় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে, যাতে এক সংবাদকর্মী আহত হন।

১৯৪৮-এর স্মৃতি ফিরে আসার ভয়

অনেক ফিলিস্তিনির মতে, ১৯৪৮ সালে প্রথমবার ঘরছাড়া হওয়ার মতোই আবারও একই পরিণতি ঘটছে।

এরহেইল বলেন,

“যদি বাড়ি ভেঙেও পড়ে থাকে, তবুও নিজের জমি দেখতে চাই। আমরা আবারও স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ হতে চাই না।”

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.