আবদুল সাত্তার: মানবতার গীতা, ভিনদেশী মেয়েকে আগলে রাখা বাস্তবের বজরঙ্গী ভাইজান
শুনে অবাক লাগতে পারে—আবদুল সাত্তারের কাছে কোরআনের বদলে কেন ‘গীতা’? এর পেছনে আছে এক অবিশ্বাস্য মানবিক কাহিনী।
১৯৯৭ সালে মাত্র ৮-৯ বছরের মূক ও বধির মেয়ে রাধা রাজস্থানের সীমান্ত পেরিয়ে ভুলবশত পাকিস্তানে ঢুকে পড়ে। সেখানে তাকে আশ্রয় দেন পাকিস্তানের এক সমাজসেবী আবদুল সাত্তার এধি। নিজের মেয়ের মতো করে লালন-পালন করেন দীর্ঘ ১৩ বছর। তাঁর স্ত্রী বিলকিস বানু নাম রাখেন “গীতা”। অবশেষে ভারত সরকারের উদ্যোগে ২০১০ সালে সে দেশে ফেরে, এবং ২০১৫ সালে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটে।
আবদুল সাত্তার (জন্ম ১৯২৮, জুনাগড়) সমাজসেবায় আজীবন নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন এধি ফাউন্ডেশন, যা আজ পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কল্যাণমূলক সংগঠন। অসংখ্য শিশু উদ্ধার, গৃহহীন মানুষকে আশ্রয়, নারীদের প্রশিক্ষণ, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স—সবকিছুতেই এধি ফাউন্ডেশন মানবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তিনি পেয়েছেন পাকিস্তানের নিশান-এ-ইমতিয়াজ, ভারতের গান্ধী শান্তি পুরস্কার, ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড, লেনিন শান্তি পুরস্কারসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মান। ২০১৬ সালের ৮ জুলাই প্রয়াত হন। মৃত্যুর পরও নিজের কর্নিয়া দান করে গেছেন।
আবদুল সাত্তার প্রমাণ করেছেন—মানবতার কোনো ধর্ম নেই। তাই তাঁকে বলা হয়, বাস্তবের বজরঙ্গী ভাইজান।