Tranding

আদিনা মসজিদ: বাংলার সুলতানি স্থাপত্যের অনন্য মহিমা

আদিনা মসজিদ: বাংলার সুলতানি স্থাপত্যের অনন্য মহিমা

১. নির্মাণকাল ও প্রতিষ্ঠাতা

১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান ইলিয়াস শাহের পুত্র সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদের নির্মাণ শুরু করেন। ১৩৭৫ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পন্ন হয় এবং সেই সময় এটি ছিল ভারতের সর্ববৃহৎ মসজিদ।

২. স্থাপত্য ও নকশা

উমাইয়া মসজিদের ধাঁচে নির্মিত এই বিশাল হাইপোস্টাইল মসজিদে ছিল প্রশস্ত করিডর, বড় গম্বুজ ও সুবিশাল প্রাঙ্গণ। মোট ৮৮টি পাথরের খিলান ও প্রায় ৩৭৮–৩৮৭টি ছোট গম্বুজ মসজিদটিকে অতুলনীয় স্থাপত্যরূপে ভাস্বর করেছে।

৩. আয়তন ও নির্মাণ উপকরণ

মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫২৪ ফুট ও প্রস্থ ৩২২ ফুট। প্রাক-ইসলামিক হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্যের পাথর ও খোদাই পুনঃব্যবহার করে এটি নির্মাণ করা হয়।

৪. রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য

দিল্লি সুলতানদের বিরুদ্ধে বিজয়ের পর সিকান্দার শাহ নিজেকে "বিশ্বাসীদের খলিফা" ঘোষণা করেন এবং আদিনা মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মর্যাদা প্রদর্শন করেন।

৫. বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণ

আজ আদিনা মসজিদ ভগ্নাবশেষে পরিণত হলেও এটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তর (ASI)-এর অধীনে সংরক্ষিত। UNESCO বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেতে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ চলছে।

৬. বিতর্ক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

কিছু মহল দাবি করেছে এখানে আগে একটি হিন্দু মন্দির (আদিনাথ মন্দির) ছিল। মসজিদের দেয়ালে হিন্দু দেবদেবীর প্রতীক খোদাই পাওয়া যায়, যা পুনঃব্যবহৃত স্থাপত্য উপকরণের প্রমাণ হতে পারে। তবে ASI এসব দাবিকে বিতর্কিত বলেছে।

✨ এক সময় ভারত উপমহাদেশের বৃহত্তম ইসলামি স্থাপত্য নিদর্শন আদিনা মসজিদ আজও তার ভগ্নাবশেষে বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.