ভারত সফরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাক্ষাৎ করল আফগান হিন্দু ও শিখ প্রতিনিধি দল ধর্মীয় স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান
ভারতে আশ্রয় নেওয়া আফগান হিন্দু ও শিখদের এক প্রতিনিধি দল সোমবার নয়াদিল্লিতে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলাভি আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। প্রতিনিধি দলটি তালিবান সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে যেন তারা আফগানিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর পুনর্নির্মাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
দিল্লির মনোহর নগরের গুরুদোয়ারা গুরু নানক সাহিব জি-এর সভাপতি গুলজিত সিং জানান, তারা আফগানিস্তানে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তবে শুধুমাত্র তখনই যদি তালিবান সরকার নিরাপত্তা ও সম্পত্তির সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। তিনি জানান, প্রতিনিধি দলে মোট ১৫ জন ছিলেন এবং বৈঠকটি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট স্থায়ী হয়।
গুলজিত সিং বলেন, আফগানিস্তান থেকে হিন্দু ও শিখদের ভারতে আগমন শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে। বর্তমানে প্রায় ৫,০০০ আফগান শিখ ও হিন্দু ভারতে বসবাস করছেন। ২০২১ সালের আগস্টে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর ভারতে জরুরি ভিসায় আনা হয়েছিল ২৭৬ জন শিখকে, কিন্তু পরবর্তীতে তারা সবাই কানাডায় চলে যান, কারণ কানাডা তখন আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আফগানিস্তানে মাত্র ২০-২৫ জন শিখ রয়েছেন, যারা গুরুদোয়ারাগুলির দেখাশোনা করছেন। পাশাপাশি মাত্র দুটি হিন্দু পরিবার দেশটিতে বসবাস করছে।
ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড ফোরামের সভাপতি পুনীত সিং চাঁধোক, যিনি ভারতে আফগান সম্প্রদায়কে সহায়তা করেন, জানান যে প্রতিনিধি দলটি মুত্তাকিকে আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক উপস্থিতি এবং বর্তমান জনসংখ্যা সম্পর্কে অবহিত করেছে।
তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলটি আফগানিস্তানে ঐতিহাসিক গুরুদোয়ারা ও মন্দিরগুলির পুনর্নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভারতের বিশিষ্ট হিন্দু ও শিখ নেতাদের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। এছাড়াও তারা অনুরোধ করেন, আগের সরকারের মতোই অন্তত দুইজন হিন্দু ও দুইজন শিখকে আফগানিস্তানের প্রশাসনে উচ্চপদে নিয়োগ করা হোক।
প্রতিনিধিরা আরও প্রস্তাব করেন যে, ভারত-আফগান সম্পর্ক মজবুত করতে কাবুল সরকার তাদের দিল্লি মিশনে একজন আফগান হিন্দু বা শিখ নিয়োগ বিবেচনা করতে পারে।
তারা মুত্তাকির কাছে অনুরোধ করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দখল হওয়া সম্পত্তি ও স্থাবর সম্পদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোক এবং দেশের বিভিন্ন প্রদেশে গুরুদোয়ারা ও মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হোক।