ইরানের রাজধানীতে মাসের পর মাস পর অবশেষে বৃষ্টি, স্বস্তি—তবু বাড়ছে পানি–সংকটের রাজনৈতিক চাপ
ইরানের রাজধানী তেহরানে কয়েক মাস পর আজ বুধবার প্রথমবারের মতো বৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘতম খরায় বিপর্যস্ত দেশটিতে এ বৃষ্টিপাত সাময়িক স্বস্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর ইরানে গত একশ বছরের মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে শুষ্ক শরৎকাল নেমে আসে।
চরম খরা পরিস্থিতি দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে পর্যন্ত সতর্কবার্তা দিতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেছেন, চলতি ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ রাজধানীর চারপাশের বাঁধগুলোতে পর্যাপ্ত পানি না জমলে সরকারকে হয়তো তেহরান থেকে সরিয়ে নিতে হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মূল্যায়ন, চলতি শরৎ ইরানজুড়ে গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক মৌসুম—যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের বহু আগের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে। অদক্ষ কৃষি ব্যবস্থায় বিপুল পানি অপচয় পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করেছে।
এপি–র প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি–সংকট এখন ইরানের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার ইরানকে পানি–সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধও হয়েছিল।
সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট–ছবিতে দেখা গেছে, তেহরানের বাইরে লার বাঁধে পানি–স্তর ভয়াবহভাবে নিচে নেমে গেছে। ২০১৮ সালে একটি প্রচারণামূলক ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু পারসিয়ান ভাষায় ইরানের জনগণের উদ্দেশে ‘পানি–সংকট মোকাবিলা’ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি ‘ইরানি জনগণের জন্য জীবন’ শিরোনামে একটি উদ্যোগ চালুর কথাও জানান।
ভিডিওতে তিনি সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে প্রস্তুত করা পানির ব্যবহারের উদাহরণ দেখাতে গিয়ে নিজেই এক গ্লাস পানি ঢেলে পান করেন। নেতানিয়াহুর বক্তব্য ছিল—পানি–সংকট ইরানি জনগণের জীবনের মৌলিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত আগস্টেও, ১২ দিনের যুদ্ধের পর, তিনি একই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করেন। ইরানিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনাদের নেতারা আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল এবং তারা কঠোর পরাজয় বরণ করেছে। তারা সবসময়ই মিথ্যা বলে। ইরানে সবকিছু ভেঙে পড়ছে। তীব্র গরমে আপনাদের শিশুরা পর্যন্ত পরিষ্কার ঠান্ডা পানি পাচ্ছে না—এটাই প্রকৃত অবহেলা।”
ইরানে বৃষ্টিপাত কিছুটা স্বস্তি আনলেও পানি–সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা যে এখনো বহাল—সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে।
সূত্র: আল জাজিরা