গাজা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর হামাসের টানেল ধ্বংসের নির্দেশ ইসরায়েলের
গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী খুব শিগগিরই মোতায়েন করা হবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামাসের টানেল ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ। তিনি জানিয়েছেন, গাজার ভেতরে হামাসের শেষ টানেলটিও নিশ্চিহ্ন করা হবে।
ক্যাটজ শুক্রবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে লেখেন, “যদি টানেল না থাকে, তবে হামাসও থাকবে না।” তার এই বক্তব্যের পর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল আসন্ন আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনীর সহযোগিতায় নয়, বরং সরাসরি হামাসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে চায়।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে হামাসকে দুর্বল করার লক্ষ্যে তাদের অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস এবং টানেল নেটওয়ার্ক নির্মূলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই বছরের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরও সেই লক্ষ্য সম্পূর্ণ অর্জিত হয়নি।
ফিলিস্তিন ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইসরায়েলি দৈনিক মারিভ-এর সামরিক বিশ্লেষক আভি আশকেনাজি মন্তব্য করেছেন, “ক্যাটজের এই দৃঢ় ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় অভিযান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে দ্বিতীয় ধাপের চুক্তি শুরু হওয়ার আগেই আরও কিছু ‘সাফল্য’ নিশ্চিত করা যায়।”
এর আগে পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের পূর্বদিকে বসতি স্থাপনকারীদের জমি দখলের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনারা টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বহু মানুষ আহত হয়।
মোটের ওপর, ট্রাম্পের ‘গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন’ মন্তব্যের পর ইসরায়েলের এই আগ্রাসী পদক্ষেপ গাজা সংকটের সমাধানকে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।