শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে মমতার মন্তব্যে অবমাননা অভিযোগে সম্মতির অভাব, মামলা স্থগিত
সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ বাধার মুখে পড়েছে, কারণ অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এতে সম্মতি দিতে অস্বীকার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের ১৯৭৫ সালের এক রায়ের ভিত্তিতে বলা হয়, আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের আগে অ্যাটর্নি জেনারেল বা সলিসিটর জেনারেলের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ কারণে আদালত গত ২১ জুলাই চার সপ্তাহের জন্য বিষয়টি মুলতবি করেছিল। গত মাসে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস আবেদনকারীর কাছে লিখিতভাবে সম্মতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।
এই বিতর্কের সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার রায় থেকে। গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে রাজ্যের সরকারি ও সরকার-সহায়ক স্কুলে প্রায় ২৫,০০০ শিক্ষক ও কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করে।
তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি “জালিয়াতি ও কারসাজিতে ভরা” এবং পরে তা ঢাকতে চেষ্টাও করা হয়েছে, যা এর বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, “কারও চাকরি কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। আমি যদি এ কথা বলার জন্য জেলে যাই, তবুও পরোয়া করি না।” তিনি এটিকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে “কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, সব শিক্ষককে একই তকমায় দোষারোপ করা ঠিক নয়।
আবেদনকারী দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই “আপত্তিকর” মন্তব্য বিচার বিভাগের মর্যাদাকে খাটো করেছে এবং আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।