আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট: শিক্ষাকে উপেক্ষা করছে সরকার!
আবারও স্পষ্ট হলো—সরকার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির প্রতি উদাসীন। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘুদের একমাত্র রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুরবস্থা প্রমাণ করে সরকারের শিক্ষাবিরোধী মানসিকতা।
দৈনন্দিন খরচের জন্য যে “Other Grants” দেওয়া হয়, তা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ড থেকে চালাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল, বাস ও গাড়ির ভাড়া, চালক-কর্মীদের বেতন, ল্যাবের খরচ—সবই বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার প্রতি সরকারের অনাগ্রহ ও অবহেলা চোখে আঙুল দিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে।
শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু সরকার যদি গ্রান্ট বন্ধ করে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন শিক্ষক নিয়োগ না দেয়, গবেষণার খরচ কমিয়ে দেয় এবং নিত্যদিনের খরচ সামলাতে বিশ্ববিদ্যালয়কে হিমশিম খাওয়ায়, তবে তাকে শিক্ষাবান্ধব সরকার বলা যায় না। এটি শিক্ষার উপর সরাসরি আঘাত।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষার একমাত্র ভরসা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করা মানে গোটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতে আঘাত করা।
যদি সরকার সত্যিই শিক্ষার উন্নতি চাইত, তবে গ্রান্ট বাড়াত, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করত, অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করত, গবেষণা ও নতুন প্রকল্পে তহবিল দিত। বাস্তবে ঘটছে উল্টো। বহুবার দেখা গেছে, সরকার যেন ইচ্ছে করেই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে পিছিয়ে রাখতে চাইছে, যাতে সংখ্যালঘুরা প্রতিযোগিতায় পিছনে পড়ে যায়।
শিক্ষার বাজেট কেটে দিয়ে সরকার আসলে কী বার্তা দিচ্ছে? — “তোমাদের শিক্ষা দরকার নেই।”
একটি সমাজকে ধ্বংস করতে চাইলে তার শিক্ষা ধ্বংস করলেই যথেষ্ট। আজকের সিদ্ধান্ত সেই ইঙ্গিতই করছে। এভাবে শুধু আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নয়, গোটা সমাজের উন্নয়নকেই বাধাগ্রস্ত করছে সরকার। শিক্ষা থেকে অর্থ কেটে নেওয়া মানে ভবিষ্যতের স্বপ্ন কেটে নেওয়া।