ইউপিএসসি পরীক্ষায় সর্বভারতীয় দ্বিতীয় – রহমতে আলম মিশনের কৃতি ছাত্র সাহিন আক্তার মুন্সী
সারা ভারতজুড়ে মাত্র ৩৩টি শূন্যপদ নিয়ে অনুষ্ঠিত ইউপিএসসি পরিচালিত মার্কেটিং অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বভারতীয় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে রহমতে আলম মিশনের প্রাক্তন ছাত্র সাহিন আক্তার মুন্সী। তিনি এখন কেন্দ্র সরকারের কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রকের অধীনস্থ ডাইরেক্টরেট অফ মার্কেটিং অ্যান্ড ইনস্পেকশনে গ্রুপ–এ অফিসার হিসেবে যোগ দেবেন।
সাহিন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন রহমতে আলম মিশনে। পরে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচারে বিএসসি সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (IARI) পিএইচডি করছেন।
নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ থানার মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহিন ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে রহমতে আলম মিশনে ভর্তি হন। একই বছরে মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি পিতৃহারা হন। তার মা ফরিদা মুন্সী তখন অসহায় অবস্থায় ছুটে যান মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রয়াত হাজী সিরাজুল ইসলাম সাহেবের কাছে। মানবদরদী সম্পাদক সাহেব সেই কঠিন সময়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন—মাধ্যমিকে নামমাত্র বেতনে এবং উচ্চমাধ্যমিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেন সাহিনের জন্য।
নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ সাহিন বলেন, “আম্মার অপরিসীম চেষ্টা ও আলহাজ্ব সিরাজুল স্যারের সহায়তা ছাড়া আমার শিক্ষাজীবন শুরুই হতো না। আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে আমার আব্বার স্বপ্ন, আমার আম্মার ত্যাগ এবং রহমতে আলম মিশনের অমূল্য অবদান। এখানে আমি শুধু বইয়ের শিক্ষা পাইনি—মানুষ হওয়ার শিক্ষা, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ এবং লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি শিখেছি।”
সাহিনের এই অনন্য সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে তার পরিবারে, গ্রামে এবং রহমতে আলম মিশনে। মিশনের বর্তমান সম্পাদক আনিসুর রহমান (বিদেশ) বলেন,
“যখন দেখা যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের অনেক ছেলে-মেয়ে পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে, মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, তখন সাহিনের মত মেধাবীরা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। যদি প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আমার আব্বা বেঁচে থাকতেন, তবে আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারতেন না। সাহিন আক্তার মুন্সী আমাদের মিশনের গর্ব, আমাদের গড়া সম্পদ। সাহিন ও তার পরিবারকে—বিশেষ করে তার আম্মাকে—অন্তরের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।”
সাহিন আক্তার মুন্সীর এই সাফল্য প্রমাণ করে—সাহস, অধ্যবসায় এবং সঠিক দিকনির্দেশ পেলে পিছিয়েপড়া সমাজের ছাত্রছাত্রীরাও জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করতে পারে।