গাজাগামী ত্রাণবহরে ড্রোন হামলার অভিযোগ, এথেন্সে চাঞ্চল্য
এথেন্স, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর “আসতুল আসসামুদ” বা “অটল বহর” ড্রোন হামলা ও বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আয়োজকরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে গ্রিস উপকূলে ঘটনাটি ঘটে।
ড্রোন থেকে অজ্ঞাত বস্তু নিক্ষেপ
ফিলিস্তিন-সমর্থক এই বহরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, একাধিক ড্রোন তাদের জাহাজগুলির ওপর অজ্ঞাত বস্তু নিক্ষেপ করে এবং একই সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করা হয়। এতে কয়েকটি নৌযানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বহরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এটি স্পষ্টভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি ও আতঙ্কিত করার প্রচেষ্টা। তবে আমরা ভীত নই, আমাদের লক্ষ্য অব্যাহত থাকবে।”
মানবাধিকার কর্মীদের দাবি
জার্মান মানবাধিকার কর্মী ইয়াসমিন আকার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। আমরা কারো জন্য হুমকি নই। এই বহরে রয়েছে কেবল মানবিক সহায়তা।” তিনি জানান, পাঁচটি নৌযান হামলার শিকার হয়েছে।
বহরের যাত্রা ও হামলা
এই বহর চলতি মাসের শুরুতে বার্সেলোনা থেকে রওনা দেয়। এর আগে তিউনিসিয়ার উপকূলে অবস্থানকালে তারা দু’বার ড্রোন হামলার অভিযোগ করেছিল। বহরে পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গসহ বিভিন্ন দেশের ফিলিস্তিন-সমর্থক কর্মীরা রয়েছেন।
ইসরায়েলের অবস্থান
এর আগে জুন ও জুলাই মাসে অনুরূপ দুটি প্রচেষ্টা আটকে দেয় ইসরায়েল। এবারও দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজার দিকে বহরকে অগ্রসর হতে দেওয়া হবে না। পরিবর্তে তারা আয়োজকদেরকে ইসরায়েলের আশকেলন বন্দরে পৌঁছানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
গাজায় প্রাণহানি বাড়ছে
এদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী গাজা সিটিতে একটি পৌরসভার গুদাম ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, যাতে নারী-শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারান। একই দিনে নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে ও অন্যান্য এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা
গাজার পাশাপাশি সিরিয়া সীমান্তেও উত্তেজনা বাড়ছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারাআ সতর্ক করেছেন, ইসরায়েল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তি না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা ইসরায়েলকে ভয় পাই, তারাই আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করছে।”
লেবাননে রাজনৈতিক অচলাবস্থা
অন্যদিকে, লেবাননের খ্রিস্টান রাজনৈতিক নেতা সামির জাজা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, “তাদের অস্ত্রধারী অবস্থান ও সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতিই রাষ্ট্রের কার্যক্রম ব্যাহত করছে।” তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতি অর্থনীতি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে।