Tranding
আর্ন্তজাতিক / December 25, 2025

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যে বিষ্ণুমূর্তি ও মন্দির ধ্বংস, ক্ষোভ কম্বোডিয়ার

দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলতে থাকা সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় অবস্থিত ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি ও সংলগ্ন একটি মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কম্বোডিয়া সরকার।

কম্বোডিয়ার প্রশাসন ও মন্দির পরিচালনা কমিটির দাবি, ভারী যন্ত্রপাতি ও বুলডোজার ব্যবহার করে ওই ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই কাজে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল। যদিও ব্যাংকক সরকার এখনো এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে ওই এলাকায় প্রায় ৩২৮ ফুট উঁচু বিষ্ণুমূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। মন্দিরটি থাইল্যান্ড সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত। সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময়ে থাইল্যান্ডের সেনা কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ওই এলাকায় অভিযান চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।

এই ঘটনার পেছনে রয়েছে ‘পান্না ত্রিভুজ’ নামে পরিচিত একটি বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চল। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই এলাকা নিয়ে বহু দশক ধরে বিরোধ চলছে। ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক আদালত এই অঞ্চলের বড় অংশ কম্বোডিয়ার অধীনে থাকার রায় দিলেও থাইল্যান্ড সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেনে নেয়নি।

চলতি বছরের মে মাসে কম্বোডিয়া সেখানে সামরিক প্রস্তুতি শুরু করলে আবার উত্তেজনা বাড়ে। জুলাই মাসে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হয়, যাতে সেনা ও সাধারণ মানুষ হতাহত হন এবং বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

এই সীমান্ত বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র প্রেয়া বিহার মন্দির, যা একাদশ শতকে নির্মিত এবং বর্তমানে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত। মন্দির সংলগ্ন এলাকা কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়েই মূলত দুই দেশের বিরোধ চলছে।

অক্টোবর মাসে আসিয়ান সম্মেলনের সময় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতিতে সম্মতি দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, সাম্প্রতিক গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় প্রেয়া বিহার মন্দিরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই প্রেক্ষিতে কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। ভারতসহ একাধিক দেশ দুই পক্ষকেই সংযম ও আলোচনার পথে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত 

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.