Tranding

একটি অজানা ইতিহাসের পাতা: নেতাজি ও হরগোবিন্দ সিংয়ের ঐতিহাসিক নিলাম

৬ জানুয়ারি, ১৯৪৪। স্থান— রেঙ্গুনের মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং।
আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান। মঞ্চে নেতাজিকে মাল্যদান করা হলো। বক্তৃতায় তিনি আপ্লুত কণ্ঠে বললেন—

“বন্ধুগণ,
আপনাদের এই ভালোবাসায় আমি অভিভূত। তবে আমার একটি প্রার্থনা আছে—এই মালাটি আমি নিলামে তুলতে চাই। নিলামে যে অর্থ উঠবে, তা আজাদ হিন্দ ফৌজের তহবিলে যাবে।”

শুরু হলো এক ঐতিহাসিক নিলাম।
প্রথমে স্থানীয় এক তরুণ শিখ—হরগোবিন্দ সিং—দাম হাঁকল ১ লাখ টাকা। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ী ব্রিজলাল হাঁকলেন ২ লাখ। এভাবে নিলাম উঠতে লাগল—৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ লাখ…। অবশেষে হরগোবিন্দ হাঁকলেন ১০ লাখ। কিন্তু ব্রিজলাল পাল্টা দিলেন ২০ লাখ টাকার ঘোষণা।

হরগোবিন্দের হাতে আর নগদ টাকা নেই। তার আছে শুধু একটি বসতবাড়ি আর দুটি ট্রাক। তিনি সেগুলোকেই দান হিসেবে ঘোষণা করলেন। কিন্তু তুলনায় ব্রিজলালের জাহাজের দান বিশাল। ফলে সবাই ধরে নিলেন মালাটি ব্রিজলালের।

ঠিক সেই মুহূর্তে নেতাজি ডাকলেন হরগোবিন্দকে।
তিনি ব্রিজলালকে বললেন—
“ব্রিজলাল, তোমার অনেক কিছু আছে। তুমি তার একটি অংশ দান করেছো। কিন্তু হরগোবিন্দ তার সবকিছু উৎসর্গ করেছে। তার একমাত্র আশ্রয়ও সে ত্যাগ করেছে। তাই এ মালার প্রকৃত প্রাপ্য হরগোবিন্দ।”

ব্রিজলাল লজ্জিত হলেন। হরগোবিন্দ অশ্রুসিক্ত চোখে নেতাজির কাছে এগিয়ে এলেন। নেতাজি তাঁকে বুকে টেনে নিলেন এবং নিজের গলার মালাটি তাঁর গলায় পরিয়ে দিলেন।

এ ঘটনা আজ ইতিহাসের পাতায় ফুটনোটে সীমাবদ্ধ, অথচ তা দেশপ্রেম ও আত্মোৎসর্গের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.