অভিযান স্থগিত রাখার আর্জি, আত্মসমর্পণের জন্য সময় চাইছে মাওবাদী নেতৃত্ব
মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রভাবিত তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উদ্দেশে একটি চিঠিতে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, সংগঠনের সদস্যদের আত্মসমর্পণের সুযোগ তৈরি করতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযানের বিরতি প্রয়োজন।
গত কয়েক মাসে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়-সহ নানা রাজ্যে বহু মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে একই সঙ্গে চলছে যৌথ বাহিনীর তৎপরতাও। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন মাওবাদীদের এক প্রভাবশালী নেতা মাডবী হিডমা। তাঁর মৃত্যুর তিন দিনের মাথায় গত ২২ নভেম্বর চিঠিটি পাঠানো হয়।
চিঠিতে সই করেছেন মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশ-ছত্তীসগঢ় স্পেশ্যাল জ়োনাল কমিটির মুখপাত্র অনন্ত। তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস, বিষ্ণুদেও সাই এবং মোহন যাদবের কাছে তাঁর আবেদন—
आত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে কিছুদিন অভিযান স্থগিত রাখা প্রয়োজন।
অনন্ত জানান, সংগঠনের প্রতিটি শাখার সঙ্গে আলোচনার পর একযোগে সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে সময় লাগবে। সেই কারণেই আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা সংগঠনের নীতি অনুযায়ী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বিশ্বাস করি। তাই অন্য সদস্যদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
সম্প্রতি তেলঙ্গানায় মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পুল্লুরি প্রসাদ রাওয়ের আত্মসমর্পণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, আরও কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ নেতা অস্ত্র ছেড়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে ইচ্ছুক।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশে মাওবাদী কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। অনন্তের দাবি, তাঁদের চাওয়া সময়সীমা সেই ঘোষিত সময়ের মধ্যেই পড়ে।
চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, আস্থার বার্তা দিতে ২ ডিসেম্বর ‘পিপল্স লিবারেশন গেরিলা আর্মি’ সপ্তাহ পালন করা হবে না। সংগঠনের তরফে দাবি, এই সময় চাইবার পেছনে কোনও গোপন উদ্দেশ্য নেই—একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতেই এই উদ্যোগ।
—প্রতীকী ছবি