গাজা ইস্যুতে আরব শাসকদের বিশ্বাসঘাতকতা — ডেভিড হার্স্ট
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব ও মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২১ দফা শান্তি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যা বৈঠকে উপস্থিত মুসলিম নেতারা অনুমোদন করেন। কিন্তু ওয়াশিংটনে ফিরে ট্রাম্প যে ২০ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, তা আগের অনুমোদিত প্রস্তাব থেকে ভিন্ন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “ওই প্রস্তাব আমাদের নয়।”
❖ আরব দেশগুলোর দ্বিচারিতা
ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রকাশের পর কাতার ও মিসরসহ কিছু আরব দেশ ক্ষোভ প্রকাশ করে। গাজা যুদ্ধবিরতিতে দীর্ঘদিন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী কাতারকে বাদ দিয়ে ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণা ছিল দেশটির জন্য অগ্রহণযোগ্য। মিসরও ক্ষুব্ধ হয়, কারণ পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।
তবুও পরবর্তীতে এই দেশগুলোই ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়। অথচ পরিকল্পনায় গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো সক্রিয় ভূমিকার সুযোগ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটি গাজার জনগণের প্রতি আরব শাসকদের বিশ্বাসঘাতকতা।
গত দুই বছরে ইসরাইলি আগ্রাসন, গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষে ৬৫,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, তবুও নতুন চুক্তিতে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাদের হাতে থাকছে না।
❖ ট্রাম্প পরিকল্পনার ফাঁদ
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা গাজায় নতুন ধরনের ইসরাইলি দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করছে। এতে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং গাজার নিরাপত্তা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’-এর হাতে কবে যাবে, তা নির্ধারণ করবেন নেতানিয়াহু।
পুনর্গঠন ও ত্রাণ কার্যক্রমেও ইসরাইলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ফিলিস্তিনিদের কোনো নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব এই প্রক্রিয়ায় স্বীকৃতি পায়নি। অধিকৃত পশ্চিম তীরের সঙ্গে গাজার সংযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
❖ আরব বিশ্বের নীরবতা
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, মিসর, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা। কিন্তু কেউই ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে পরামর্শ করেননি। হামাসকেও চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে—যা একপ্রকার আত্মসমর্পণ।
হার্স্ট বলেন, “ইসরাইলের যুদ্ধ ময়দানে যা করতে পারেনি, তা এখন আরব নেতাদের সহায়তায় ট্রাম্প সহজেই করছেন।”
❖ উপসংহার
চূড়ান্ত পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা নেই। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকেই সালিশকারী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ডেভিড হার্স্টের মতে, “এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার আশা চিরতরে শেষ করে দেবে এবং আরব শাসকদের লজ্জার মুখে ফেলবে।”
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।