তুরস্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, গাজা অভিযান নিয়ে নতুন উত্তেজনা
গাজায় গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক।
ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর দফতর শুক্রবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানায়, মোট ৩৭ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা এই পরোয়ানার আওতায় এসেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির, এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির।
প্রসিকিউটর দফতর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী “গণহত্যা” ও “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে। আঙ্কারা ও তেলআভিভের মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই পদক্ষেপ সেটিকে আরও গভীর করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের কড়া সমালোচক। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সম্প্রতি এক বক্তৃতায় বলেন, “গাজার শিশুদের রক্তের দায় কেউ এড়াতে পারবে না।”
তুরস্কের আদালতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন তুলেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা গঠনের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
তুরস্কের এই পদক্ষেপকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে “প্রতীকী ন্যায়বিচার” হিসেবে দেখছেন। তবে বাস্তবে ইসরায়েলি নেতাদের গ্রেপ্তার করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
চলমান গাজা সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।