Tranding
আর্ন্তজাতিক / December 23, 2025

আসিয়ানের উদ্যোগে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতির আলোচনা, নতুন হামলার অভিযোগে অনিশ্চয়তা

আসিয়ানের মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত নিরসনে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও নতুন করে সহিংসতার অভিযোগে শান্তি উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মালয়েশিয়া জানিয়েছে, আসিয়ানের উদ্যোগে আগামী ২৪ ডিসেম্বর (ক্রিসমাস ইভ) যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা নিয়ে দুই দেশ আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

সোমবার কুয়ালালামপুরে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক শেষে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান বলেন, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আসিয়ানের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি। তিনি জানান, নির্ধারিত বৈঠকটি কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ড যৌথ সাধারণ সীমান্ত কমিটির আওতায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন ও তদারকি নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে, থাই বিমানবাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সীমান্তবর্তী সিয়েম রিয়াপ ও প্রেহ ভিহার প্রদেশে বোমাবর্ষণ করেছে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সোমবার বিকেলে থাই যুদ্ধবিমান দেশটির ভেতরে ঢুকে একাধিক এলাকায় হামলা চালায়। এ অভিযোগ শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই দেশে মিলিয়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং উভয় পক্ষেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত থাইল্যান্ডে অন্তত ২২ জন এবং কম্বোডিয়ায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। সংঘাতে ট্যাংক, ড্রোন ও ভারী কামান ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে।

আসিয়ান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দ্রুত সহিংসতা বন্ধ এবং উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। মালয়েশিয়া, চলতি বছর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থেকে, এই সংঘাতকে শুধু আঞ্চলিক নয় বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান বলেন, “আসিয়ান সদস্যদের মধ্যে গড়ে ওঠা পারস্পরিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক সংযোগের কারণে এ ধরনের সংঘাত একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হয়ে ওঠে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আসিয়ানকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, লক্ষ্য কেবল উত্তেজনা কমানো নয়, বরং বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি এবং সংলাপের পথ খোলা রাখা।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সহিংসতা আসিয়ানের সংকট ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, আগেও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তবুও আসিয়ান নেতৃত্ব আশা করছে, আসন্ন বৈঠক দুই দেশের মধ্যে সহিংসতা থামাতে এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হতে সহায়ক হবে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.