ভিয়েতনামে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহত কমপক্ষে ১৫, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ
ভিয়েতনামে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে গত তিন দিনে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে বুধবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
দেশটির সেতু ও বাঁধ কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার মধ্য ভিয়েতনামে একটি বাস ভূমিধসে চাপা পড়ে ছয়জন নিহত হন। মঙ্গলবার আরেক ঘটনায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া একটি সেতু পার হওয়ার সময় ট্রাকচালক স্রোতে ভেসে যান।
এদিকে প্রায় ২০ হাজার বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে, হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হঠাৎ বন্যার পানি বেড়ে কুই নন শহরের নানা অংশ দুই মিটারের বেশি পানির নিচে চলে যায়। পানি বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দাকে বাড়ির ছাদে বা গির্জার ঘণ্টাঘরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, ভূমিধসে নেমে আসা বড় বড় পাথরের কারণে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
ভিয়েতনামের জাতীয় আবহাওয়া ও জলবায়ুবিদ্যা কেন্দ্র জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলে আজও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এবং কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আরও বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শনিবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত মধ্য ভিয়েতনামের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১১০০ মিলিমিটার ছাড়িয়েছে। অঞ্চলটি দেশের প্রধান কফি উৎপাদন এলাকা এবং জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত অঞ্চল হওয়ায় ক্ষতির প্রভাব আরও ব্যাপক হতে পারে।
ডাক লাক প্রদেশের কয়েকজন কফি ব্যবসায়ী জানান, নিচু এলাকার অসংখ্য কফি বাগান পানিতে ডুবে গেছে এবং টানা বৃষ্টির কারণে কফি সংগ্রহের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১০–১৫ শতাংশ কফি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, আর শস্য শুকাতে রোদ না থাকায় কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা জানায়, রাতে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় শতাধিক পরিবারকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী জিয়া লাই প্রদেশে বন্যার কারণে আজ স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, এতে ২৬ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বিরত রয়েছে।
এদিকে ইউনেসকো ঘোষিত ঐতিহ্যবাহী শহর হোই আনেও দুই সপ্তাহ আগে হওয়া বন্যার পর আবারও পানির স্তর বেড়ে গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।