রাশিয়ায় শ্রম রপ্তানির আড়ালে সৈনিক নিয়োগের সিন্ডিকেট, নিখোঁজ বহু বাংলাদেশি তরুণ
ভালো চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশি যুবকদের রাশিয়ায় পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ এক চক্র। শ্রম রপ্তানির নামে এই প্রতারণায় যুক্ত কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং স্থানীয় দালাল চক্র। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাশিয়া গিয়ে তারা সেনা প্রশিক্ষণ ও ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কীভাবে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে
বিভিন্ন জেলার (লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চুয়াডাঙ্গা) তরুণদের প্রথমে স্থানীয় দালালরা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেয়। পরে তাদের বন্যা বিজয় ওভারসিজ লিমিটেড, এসপি গ্লোবাল রিসোর্স, ম্যানিজ পাওয়ার করপোরেশন ও ফ্রেন্ডশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন রিক্রুটমেন্ট লিমিটেড নামের এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে পাঠানো হয়।
চুক্তি অনুযায়ী ৫ থেকে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় এবং বলা হয় ‘সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ রাশিয়া এলএলসি’ নামের এক চীনা প্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা পৌঁছে যায় রুশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায়।
নিখোঁজদের গল্প
চুয়াডাঙ্গার মনিরুল ইসলাম, গাজীপুরের অয়ন মণ্ডল, চট্টগ্রামের অমিত বড়ুয়া, লক্ষ্মীপুরের সাজ্জাদ হোসেন ও ময়মনসিংহের মহসিন আহমদ— এদের সবাই এখন নিখোঁজ। পরিবারগুলো বলছে, দালাল ও এজেন্সি টাকা নিয়ে তাদের প্রিয়জনদের যুদ্ধের মাঠে বিক্রি করেছে।
মনিরুলের স্ত্রী লিপি বেগম জানান, “আমার স্বামী রাশিয়ায় গিয়েই জানায়, তাকে জোর করে সেনা প্রশিক্ষণে নেওয়া হচ্ছে। ১৬ এপ্রিল তার শেষ বার্তায় লেখে— আমি খুব বিপদে আছি, হয়তো আর কথা হবে না।”
এজেন্সিগুলোর বক্তব্য
বন্যা বিজয়ের ম্যানেজার আকিব ইসলাম বলেন, “আমরা কাউকে সেনাবাহিনীতে বিক্রি করিনি। যদি কেউ চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যায়, তার দায় আমাদের নয়।”
অন্যদিকে এসপি গ্লোবাল রিসোর্সের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের অনেক এজেন্ট আছে। কেউ যদি নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করে, আমরা জানি না।”
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, “এই সিন্ডিকেটগুলো সচেতনভাবে প্রতারণা করছে। রাশিয়া ছাড়াও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে একই কৌশলে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। সরকারকে এ বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিতে হবে।”