বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণ: চার লেবাননি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে—ইসরায়েলের দাবি
ইসরায়েল অভিযোগ করেছে যে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ২০২০ সালের বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণের ব্যাপারে সংগঠনের সম্পৃক্ততা ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় চারজন লেবাননি নাগরিককে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মঙ্গলবার এ দাবি জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
ইসরায়েলি সেনার দাবি অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা গুদামে বহু বছর ধরে সুরক্ষা ছাড়া মজুত রাখা উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের বিষয়ে হিজবুল্লাহর ভূমিকা প্রকাশ করতে পারতেন। বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের শিকারদের মধ্যে ছিলেন কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তা এবং দু’জন সাংবাদিক, যারা অতীতে হিজবুল্লাহ ও বিস্ফোরণের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হিজবুল্লাহ বরাবরই এই বিস্ফোরণের দায় অস্বীকার করে আসছে।
২০২০ সালের আগস্টে বৈরুত বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান, আহত হন প্রায় ৬ হাজার। বিস্ফোরণে শহরের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। এটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অণু-মুক্ত (non-nuclear) বিস্ফোরণ হিসেবে বিবেচিত।
বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিষ্ক্রিয় অবস্থায় নিরাপত্তাহীনভাবে সংরক্ষণকে। কিন্তু চার বছর পার হলেও ঘটনায় এখনো কাউকে দায়ী করা হয়নি।
বিস্ফোরণ তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপ, বিচারব্যবস্থার বাধা ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে স্থগিত আছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা তদন্তের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে যাচ্ছেন, আর বিচারকদের কার্যক্রমও নানা উপায়ে ব্যাহত করা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে লেবানন সরকার একটি নতুন তদন্ত প্রচেষ্টা শুরু করার ঘোষণা দেয়। ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাবে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া হিজবুল্লাহ আর আগের মতো তদন্তে বাধা দিতে পারছে না—এ বিষয়টিও নতুন তদন্ত উদ্যোগের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।