বিনয় বসু: সাহসের অমর প্রতীক, ত্যাগের মহাকাব্য
সংগৃহীত প্রতিবেদন – অনলাইন বঙ্গদর্পণ :
আপনি কি জানেন?
🔹 লোম্যান হত্যার পর যখন পুলিশ উন্মত্তভাবে বিনয় বসুকে খুঁজছিল, তখন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাঁকে দেশত্যাগের পরামর্শ দেন। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় তাঁর বিদেশযাত্রার সমস্ত খরচ বহনের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু বিনয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন—কারণ তাঁর কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা তুচ্ছ, স্বাধীনতাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।
🔹 অলিন্দ যুদ্ধে আহত হয়ে অচৈতন্য বিনয়ের আঙুল দু’টি পিষে দিয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট—কারণ সেদিন তিনি বিনয়-বাদল-দীনেশের বীরত্বে পরাস্ত হয়েছিলেন।
🔹 মেডিক্যাল কলেজে আনা হলে গোয়েন্দাদের উত্তরে বিনয় বলেছিলেন:
“আমি আপনাদের ৫ হাজার টাকা বাঁচিয়ে দিয়েছি (আমাকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কারমূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা)। এর থেকে আর বেশি কী আশা করেন আমার কাছে?”
🔹 মাথার ক্ষতের ব্যান্ডেজ নিজে খুলে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন—যেন ক্ষত সেপটিক হয়ে মৃত্যু হয়, কিন্তু ইংরেজদের হাতে জীবিত ধরা না পড়েন।
🔹 তাঁর মৃত্যুর পরদিন কলকাতায় পোস্টার পড়েছিল: “Benoy’s Blood Beckons For More Blood”। গোটা বাংলার চোখ নুইয়ে গিয়েছিল শোকে, কিন্তু বুক ভরে উঠেছিল গর্বে।
উচ্চবিত্ত পরিবার, ডাক্তারি পড়া মেধাবী ছাত্র হয়েও বিনয় বসু দেশকে বেছে নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করে ইংরেজ অফিসার সিম্পসনকে হত্যার মতো অভূতপূর্ব সাহস দেখিয়েছিলেন তিনি।
বিনয়-বাদল-দীনেশ আজও অমর। তাঁদের ত্যাগ ও বীরত্ব বাংলার প্রতিটি হৃদয়ে জ্বালিয়ে রাখবে চিরন্তন প্রদীপ।
আজ বিনয় বসুর জন্মদিনে তাঁকে জানাই অগাধ শ্রদ্ধা।
(আইপিএস সুপ্রতিম সরকারের গবেষণা-ভিত্তিক সিরিজ থেকে সংগৃহীত, কলকাতা পুলিশ সংগ্রহশালার নথির ভিত্তিতে)