পলাশীর প্রান্তরে বিশ্বাসঘাতকতা — ইবনে আদম
বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতার সূর্যাস্তের ইতিহাস রচিত হয়েছিল ১৭৫৭ সালে --
• পলাশী, মুর্শিদাবাদ, ২৩ জুন ১৭৫৭ — আজ থেকে ঠিক ২৬৮ বছর আগে বাংলার ইতিহাসে সংঘটিত হয়েছিল এক ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনি। তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী সংখ্যায় অনেক বেশি হলেও, ষড়যন্ত্র আর ভেতরের শত্রুর কারণে তিনি পরাজিত হন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনানায়ক রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
• নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের হাতে ছিল ১৫,০০০ সৈন্য। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি ব্রিটিশদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার কারণে কার্যত নীরব দর্শক হয়ে থাকেন। সেনা উপস্থিত থাকলেও তারা যুদ্ধ করেনি। নবাবের পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল এই বিশ্বাসঘাতকতা।
• বাংলার ধনকুবের ব্যাঙ্কার জগৎ শেঠ পরিবার নবাবকে অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বরং ইংরেজদের যুদ্ধ চালাতে আর্থিক সহায়তা করে। ফলে সিরাজ আর্থিক দিক থেকেও ভেঙে পড়েন ।
• নবাবের অপর এক প্রধান সেনাপতি রায় দুর্লভও যুদ্ধের সময় সৈন্য নিয়ে উপস্থিত থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এতে নবাবের বিশাল বাহিনী কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
• ব্যবসায়ী উমিচাঁদ প্রথমে ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায়। পরে নবাবের দিকেও দরদাম শুরু করে। ইংরেজরা তাকে প্রতারণা করে "কালো চুক্তি" (Black Treaty) নামে এক ভুয়া প্রতিশ্রুতি দেয়। শেষ পর্যন্ত উমিচাঁদ প্রতারিত হলেও তার ভূমিকা ষড়যন্ত্রকে ঘনীভূত করে।
• নদিয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় প্রকাশ্যে সিরাজের বিরুদ্ধে যাননি, কিন্তু ব্রিটিশপন্থী গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে নবাবকে একা ফেলে দেন।
• ২৩ জুন ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না, বরং বাংলার স্বাধীনতার সমাধিলিপি। মীরজাফর, জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ ও রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া হয়তো ইংরেজদের এত সহজে ভারত শাসনের সুযোগ আসতো না।
• ইতিহাসবিদদের মতে:
"পলাশীর যুদ্ধ ছিল মূলত বিশ্বাসঘাতকতার জয় এবং আত্মসমর্পণের ইতিহাস।"