সিরিয়ায় রক্তক্ষয়ী অভিযান: ইসরায়েলের নতুন অনুপ্রবেশে উত্তেজনা বেড়েছে, নিন্দায় আন্তর্জাতিক মহল
ইসরায়েল আবারও দক্ষিণ সিরিয়ায় সামরিক অনুপ্রবেশ চালিয়ে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারকে চাপে রাখছে। বৃহস্পতিবার ভোরে দামেস্কের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি কমান্ডো বাহিনীর রক্তক্ষয়ী অভিযানের ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ সময় সিরিয়ার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ‘রাদ আল-উদওয়ান’ (আগ্রাসন প্রতিরোধ) অভিযানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে পালিত মিছিলের আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত বছর এই অভিযানের মধ্য দিয়েই বাশার আল-আসাদের শাসন পতন হয়।
সিরিয়ার রিফ দামেস্ক অঞ্চলের বেইত জেন শহরে অভিযান চালিয়ে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি বাহিনী, যাদের ‘বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত সন্দেহে খুঁজছিল বলে দাবি করে ইসরায়েল। গ্রেপ্তারের পর বাহিনী এলাকা ছাড়তে শুরু করলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের ওপর গুলি চালায়। অভিযানের ধাক্কায় কমান্ডোর দলটি পিছু হটে এবং পিছনে ফেলে যায় একটি ভারী সাঁজোয়া ‘হামার জিপ’। সেটি যাতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে না পড়ে, সে জন্য আকাশপথ থেকে গাড়িটি ধ্বংস করা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ঘটনায় তাদের ছয়জন সৈন্য ও অফিসার আহত হয়েছে। তবে সিরীয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের এই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যা তারা ‘পরিপূর্ণ যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
এদিকে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশের ঘটনায় আরব ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সব ধরনের ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানায়। রিয়াদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে—বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে—ইসরায়েলের পুনঃপুনো আগ্রাসন ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।