কানাডা–ভারত যৌথ বিবৃতি: সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন রোডম্যাপ
নিজস্ব প্রতিবেদন | ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | নয়াদিল্লি
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দের ভারত সফরের সময় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। অক্টোবর ১২ থেকে ১৪, ২০২৫ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সরকারি সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা এবং অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও শিক্ষা খাতের সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কানাডা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীদের নির্দেশনার আলোকে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সমন্বিত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য উভয় পক্ষ ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হাইকমিশনারদের পুনঃনিয়োগ ঘোষণা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিনিয়র অফিসিয়াল স্তরের আলোচনা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ-স্তরের সপ্তাহের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক।”
উভয় মন্ত্রী একমত হয়েছেন যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে একটি শক্তিশালী কানাডা–ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে না, বরং সরবরাহ চেইনকে নির্ভরযোগ্য করা, কৌশলগত স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২৩.৬৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং উভয় দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান একে অপরের বাজারে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ থেকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”
উভয় দেশ পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য শক্তি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, শক্তির নিরাপত্তা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
দুই দেশের হাইকমিশন ও কনস্যুলেট অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে যৌথ উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে, যা পারস্পরিক আস্থা পুনর্নির্মাণ ও সহযোগিতা আরও গভীর করবে।
উভয় মন্ত্রী যৌথভাবে ঘোষণা করেছেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর এবং বিস্তৃত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানো হবে, যার মধ্যে রয়েছে কার্যকর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করা।”
এই যৌথ বিবৃতি কানাডা–ভারত অংশীদারিত্বের নতুন ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে দুই দেশের সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করবে।