পদ্মার ফাঁদে: স্মৃতি, স্বপ্ন আর সর্বনাশ -মাইনুল ইসলাম
পদ্মাগ্রাসে তারানগর, গেল ভিটেমাটি,
হৃদয় মাঝে হাহাকার, ভাঙে বেঁচে থাকা জাটি।
চাষের জমি, ফসল ক্ষেত, বাগান, বাড়িঘর —
ভেসে যায় পদ্মার জলে, পিছে ফেলে কবর।
ঠাকুরদা, জ্যাঠা, পিতা — জন্মেছেন এই মাটিতে,
মায়ার ছোঁয়া, স্মৃতির আঁচল — আজ কেবল বাতাসে ভাসে।
চৌদ্দ গুষ্টির বসতভিটা, গিলে খায় নদীর খোঁড়ল,
সব ইতিহাস, হাসির গল্প — ঢেকে যায় চোখের জল।
বিষণ্ন চোখে তাকায় শিশু, ক্লান্তিতে নিঃস্ব,
মাটিহীন পায়ের নিচে কাঁপে মানবিক বিশ্বাস।
মাতৃদুগ্ধহীন কান্না, কেবল কাঁদে পদ্মার কোলে,
আকাশ ছুঁয়ে হাহাকার — না পাওয়ার যন্ত্রণার তোলে।
খোলা আকাশ, কুয়াশা রাত — পেটে ক্ষুধার শাঁখ,
ভেসে যায় কান্নার সুরে নিশুতি রাতের আঁধার।
মন্ত্রী-সান্ত্রী চোখ ঘোরায়, ফেরে না কারো দৃষ্টি,
ভাঙনের শব্দ শোনা যায় না, অভ্যস্ত শাসকের সৃষ্টি।
“গ্ৰাম বলেই হেলা কোরো না, ফিরতে পারে তোমার ঘরেও,”
সেদিন তুমিও বুঝবে — এই নদী শুধু গিলে নয়, কাঁদায়ও।