গাজায় যুদ্ধবিরতি শুধু সংবাদে, বাস্তবে চলছে ‘নীরব গণহত্যা’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজায় এক মাস ধরে চলছে যুদ্ধবিরতি। কিন্তু বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকার বাসিন্দা মানার জেন্দিয়া এখনো বাস্তুচ্যুত, পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছেন দেইর আল-বালাহ এলাকায়।
জেন্দিয়া জানান, “যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও শুজাইয়ার বেশিরভাগ অংশ এখনো ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহ পর আমাদের আশ্রয়স্থলেই ভয়াবহ বোমা হামলা হয়। সেই হামলায় আমার বোন নিহত হয়। তার স্বামী যুদ্ধের আগেই মারা গিয়েছিলেন। এখন আমি একাই তাদের সন্তানদের দেখছি।”
তিনি আরও বলেন, “গাজায় ‘গণহত্যা’ কেবল মিডিয়ার প্রতিবেদনেই বন্ধ হয়েছে, বাস্তবে নয়। আমাদের জন্য যুদ্ধ এখনো চলছে, কেবল বিশ্ব গণমাধ্যম এ নিয়ে কথা বলা বন্ধ করেছে।”
যুদ্ধবিরতির মাঝেও রক্তপাত
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি সেনাদের হামলা চলছে। ধ্বংস হচ্ছে ঘরবাড়ি, নিহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র গত এক মাসেই গুলিবর্ষণ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪২ জন, আহত হয়েছেন ৬২০ জন।
অবরোধের কারণে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটও রয়ে গেছে। দিনে গড়ে মাত্র ১৫০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যেখানে চুক্তিতে ছিল ৬০০টি। অধিকাংশ ট্রাকেই জরুরি নয় এমন সামগ্রী থাকায় প্রকৃত চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও গাজার বাস্তবতা এখনো ভয়াবহ। মানুষের কাছে এটি যেন কেবল সংবাদপত্রে বন্ধ হওয়া যুদ্ধ, বাস্তবে নয়।