তেল আবিবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনার আংশিক প্রত্যাহার শুরু
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা (স্থানীয় সময়) থেকে। চুক্তি অনুযায়ী গাজা উপত্যকা থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজার অভ্যন্তর থেকে বেশ কয়েকটি ইউনিট সরিয়ে নিয়েছে। কিছু বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলেও, কিছু সেনা নতুনভাবে নির্ধারিত সীমান্তে অবস্থান করছে।
সেনা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়া চলেছে ভারী গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার আড়ালে, যাতে গাজায় অবস্থানরত সেনাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিখাই আদ্রিই এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে জানান,
> “দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। সেনারা নতুন অপারেশনাল লাইন ধরে পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন করেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের অধীনে সেনারা প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।”
গাজায় প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা, মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আল-মুগাইর এএফপি-কে জানান, “ইসরায়েলি বাহিনী আজ সকাল থেকে গাজার বেশ কয়েকটি অঞ্চল থেকে সরে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গাজা সিটি ও খান ইউনুস থেকে সেনা প্রত্যাহার লক্ষ্য করা গেছে।”
তিনি আরও জানান, “খান ইউনুসের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল থেকে সেনারা পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে।”
ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেনা প্রত্যাহারের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে প্রত্যাহার শেষে ইসরায়েল এখনও গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকার উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে — গাজার সীমান্ত বরাবর একটি ‘বাফার জোন’, মিশরের সঙ্গে সংযোগকারী ফিলাডেলফি করিডর, গাজার উত্তরে বেইত হানুন ও বেইত লাহিয়া, গাজার পূর্ব উপকণ্ঠের উঁচু ভূমি এবং দক্ষিণে রাফা ও খান ইউনুসের বিস্তীর্ণ এলাকা।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করেছেন স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। তারা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের ভাঙা ঘরবাড়ি খুঁজে দেখছেন, ঠিক সেই সময় যখন ইসরায়েলি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করেছে।