সঞ্চার সাথী বিতর্কে পিছিয়ে এল কেন্দ্র, বাধ্যতামূলক ইনস্টলেশন নিয়ে নির্দেশ শিথিল
স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ প্রি-ইনস্টলের সিদ্ধান্তে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হতেই অবশেষে অবস্থান বদল করল কেন্দ্র সরকার। প্রথমে টেলিকম মন্ত্রকের নির্দেশে সব নতুন মোবাইল ফোনে অ্যাপটি আগে থেকেই ইনস্টল থাকা বাধ্যতামূলক করা হয় এবং সেটি মুছতে না দেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল, বিরোধী দল এবং মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারির পথ খুলে যাবে। কংগ্রেস নেতারা জানিয়েছিলেন, এটি ‘বিগ ব্রাদার নজরদারি’-র মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে। শিল্পমহলও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়, কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁদের কোনও মতামত নেওয়া হয়নি।
সরকারের দাবি ছিল, সাইবার প্রতারণা বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতেই ‘সঞ্চার সাথী’ প্রয়োজন। সন্দেহজনক কল বা প্রতারণামূলক যোগাযোগ শনাক্ত করে সতর্কবার্তা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে অ্যাপটির।
তবে বিতর্ক তীব্র হওয়ায় অবশেষে টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া স্পষ্ট জানান, সঞ্চার সাথী বাধ্যতামূলক নয়, সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। গ্রাহক চাইলে অ্যাপটি আনইনস্টলও করতে পারবেন। তাঁর বক্তব্য, “মানুষকে সুরক্ষার সুযোগ দিতেই এই অ্যাপ। ব্যবহার করবেন কি না, সেটি নাগরিকদের সিদ্ধান্ত।”
শিল্পমহলের আপত্তি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অনীহা ও রাজনৈতিক চাপে কেন্দ্র তার আগের অবস্থান থেকে কার্যত পিছিয়ে এসেছে।