সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা চিনের, শুভেচ্ছা জানাল যুক্তরাষ্ট্রও
ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লির প্রতি সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে চিন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারতকে “বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
শি জিনপিং তাঁর বার্তায় বলেন, তিনি আশা করেন ভবিষ্যতে ভারত ও চিনের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি। এতে সীমান্ত সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে আলোচনা ও সামরিক পর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে চিনের অবস্থান নিয়ে ভারতের উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এই বাস্তবতায় ভারত সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে। গত কয়েক বছরে লাদাখ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নতুন রাস্তা, সেতু ও টানেল নির্মাণের কাজ হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব লাদাখে দেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার একটি বায়ুসেনা ঘাঁটি নির্মাণের কাজও চলছে, যা আগামী মাসগুলোতে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা।
এদিকে, ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও এক বার্তায় ভারতের জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি প্রতিরক্ষা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতি ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের এই শুভেচ্ছা বার্তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে চিনের তরফে ভারতের প্রতি বন্ধুত্বের আহ্বান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।