থাই–কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষ অব্যাহত, নিহত অন্তত ২১ জন
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই টানা সংঘর্ষ চলছে। সাম্প্রতিক দফার সহিংসতায় গত ছয় দিনে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। গোলাগুলির জেরে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের প্রতি হুমকি যতদিন থাকবে, ততদিন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত থাই সেনাবাহিনী সক্রিয় থাকবে।
এর পরপরই কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, থাইল্যান্ড তাদের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালাচ্ছে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, শনিবার থাই বাহিনী দুটি এফ–১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক দফা বোমা হামলা চালিয়েছে এবং সেই হামলা এখনো বন্ধ হয়নি।
সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার খবর মিলেছে। নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় উভয় দেশের সীমান্ত অঞ্চল থেকে প্রায় সাত লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর উদ্যোগে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, উভয় পক্ষই শান্তি বজায় রাখতে প্রস্তুত। তবে বাস্তবে সীমান্তে সংঘর্ষ থামেনি এবং পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও স্থলপরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।