ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে ডেপুটেশন, সময়সীমা বাড়ানোর দাবি কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরামের
গতকাল কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরামের উদ্যোগে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে একটি ডেপুটেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংশোধনী আইন, যা সংগঠনের দাবি অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তিকে সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত করার এক ‘কৌশলী পদক্ষেপ’, তার বিরোধিতা করেই এই ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
সংগঠনটি জানায়, এই সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে তারা শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ ওয়াকফ বিষয়ক ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হলেও, মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদের এক সভায় ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্যে এই আইন মানা হবে না এবং উদ্বেগের কিছু নেই। কিন্তু বাস্তবে রাজ্য সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ ফোরামের।
ফোরামের দাবি, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে নির্দেশ পাঠিয়েছে যে সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির নথি ‘উম্মিদ’ পোর্টালের মাধ্যমে জমা দিতে হবে, যার শেষ তারিখ ৫ ডিসেম্বর। সেখানে ৪৬টি নথি চাওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবে কারও পক্ষেই দেওয়া সম্ভব নয়। তারা অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার আগেই বিষয়টি জানত, কিন্তু সাধারণ মানুষের সামনে তা তুলে ধরেনি। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর ভরসা ছিল প্রতারণা, দাবি সংগঠনের।
এই পরিস্থিতিতে কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরাম ডেডলাইন কমপক্ষে এক বছর বাড়ানো এবং নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া সরলীকরণের দাবি জানিয়ে ওয়াকফ বোর্ডে স্মারকলিপি জমা দেয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও-র সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও হয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের দাবি যতটা সম্ভব সমর্থন ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
ফোরাম আরও অভিযোগ করে, ঠিক এসআইআর–এর ক্ষেত্রেও রাজ্য দ্বিচারিতা করেছে—একদিকে প্রকাশ্যে দাবি করছে আইন মানবে না, অন্যদিকে সেই আইন কার্যকর করতে সরকারি ব্যয় ও জনবল ব্যবহার করছে। একইভাবে ওয়াকফ বিষয়ে রাজ্যও কেন্দ্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ ওঠে।
সংগঠনটি উল্লেখ করে, তামিলনাড়ু, কেরালা সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সুপ্রিম কোর্টের রায় না আসা পর্যন্ত তারা কেন্দ্রের ওয়াকফ আইন কার্যকর করবে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন সেই অবস্থান নিল না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে ফোরাম।
ফোরামের নেতাদের বক্তব্য—ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার লড়াই চলবে, ভবিষ্যতে রাস্তায় নেমে আন্দোলনেও তারা প্রস্তুত। তাদের দাবি, “আমরা আমাদের অধিকার বুঝে নেব।”