লেবাননে আমানত ফেরত আইন নিয়ে বিতর্ক, আপত্তির মধ্যেই আলোচনা শুরু সরকারের
লেবাননে ২০১৯ সাল থেকে স্থগিত থাকা ব্যাংক আমানত ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আইনের আলোচনা শুরু হলেও তা শুরুতেই নানা বাধার মুখে পড়েছে। সরকার যখন খসড়া আইন নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে, ঠিক তখনই রাজনৈতিক দল, ব্যাংক খাত এবং সাধারণ আমানতকারীদের পক্ষ থেকে জোরালো আপত্তি উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার বৈরুতে মন্ত্রিসভার বৈঠক চলাকালে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে আমানতকারীরা বিক্ষোভ করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনটি সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা না করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায় কমানোর পথ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ব্যাংক মালিকদের সংগঠনও খসড়ার বিভিন্ন ধারার কড়া সমালোচনা করেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এ বিষয়ে বলেন, তিনি কোনো পক্ষের হয়ে অবস্থান নিচ্ছেন না এবং এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা সংসদের মধ্যেই হওয়া উচিত। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম খসড়া আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলায় প্রস্তাবিত আইন বাস্তবসম্মত এবং প্রয়োগযোগ্য। তাঁর মতে, আইন পাসে বিলম্ব হলে জনগণের আস্থা ও আন্তর্জাতিক মহলের বিশ্বাস আরও দুর্বল হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা খসড়ার কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালের পরের আর্থিক লেনদেনের ওপর পশ্চাদপট কার্যকর কর আরোপ, আমানতের মূল্য পুনর্মূল্যায়ন এবং আগের বছরের সুদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে—এমন বিধানগুলোকে বিতর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক সংকট মোকাবিলায় আমানত ফেরতের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সরকার ও সংসদের মধ্যে সমঝোতা ছাড়া এই আইন কার্যকর করা কঠিন হবে, আর রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
ছবি: সংগৃহীত