৪-৫ ডিসেম্বর: পুতিনের ভারত সফর, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্ভাবনা
ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফর রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মতবিনিময় করা হবে। সফরের শেষে যৌথ ঘোষণা এবং একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। এই সফরে পুতিন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই রাষ্ট্র সফর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গভীর সংলাপ হবে।
এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে যখন ভারত পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মুখোমুখি, বিশেষত রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানি নিয়ে। ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তা তেল কিনে থাকায় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কিছুটা জটিল হয়েছে। গত আগস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সংকুচিত হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমান ‘সু-৫৭’ এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এস-৫০০’ কেনার বিষয়েও আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা করবে। ভারত-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে এই চুক্তি ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।
এই রাষ্ট্র সফর ভারতের বৈদেশিক নীতি এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও টেকসই করবে বলে আশা করা হচ্ছে।