দিল্লি বিস্ফোরণ: ফরিদাবাদ থেকে উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত ছড়াল তদন্তের জাল
দিল্লির চাঁদনি চক সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। বিস্ফোরণের পর থেকে এনআইএ, দিল্লি পুলিশ ও রাজ্য গোয়েন্দা দফতর যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে।
• তল্লাশি অভিযান
মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের লখনউ, সাহারানপুর ও লখিমপুর খেরি জেলায় তল্লাশি চালায় সন্ত্রাস দমন শাখা (এটিএস) ও স্থানীয় পুলিশ। সন্দেহভাজন চিকিৎসক শহিদ ও শাহিনের বাড়িতে তল্লাশি চলে। এর আগে ফরিদাবাদ ও হরিয়ানার একাধিক স্থানে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট — প্রায় ৩৬০ কেজি।
• বিস্ফোরণের যোগসূত্র
তদন্তকারীরা মনে করছেন, ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক এবং দিল্লির লালকেল্লার সামনে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে ওই গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে অন্তত ১২ জন প্রাণ হারান এবং কয়েকজন আহত হন।
• সন্দেহভাজন ও জিজ্ঞাসাবাদ
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি হরিয়ানায় নিবন্ধিত ছিল। গাড়ির মালিক ও চালক হিসেবে সন্দেহভাজন উমর মহম্মদের পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে দেহাংশ শনাক্তের জন্য। কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।
• সরকারের প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, ‘‘এই ষড়যন্ত্রে যারা যুক্ত, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
• তদন্তের দিক
এনআইএ, আইবি, এবং দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধানে কাজ করছে। সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় একটি সংগঠন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
ছবি: আনন্দবাজার