রাজ্যে সংখ্যালঘু এলাকায় ৭ ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরি হলেও শিক্ষা দফতরের হস্তক্ষেপ নেই
নিজস্ব সংবাদদাতা: সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর ৩৮টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। এর মধ্যে ৭টি স্কুলের ভবন নির্মাণ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হলেও এখনও পর্যন্ত স্কুল শিক্ষা দফতরের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার তৈরি এই অবকাঠামো অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এমএসডিপি প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্কুলগুলির ভবন নির্মাণ হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলমান প্রকল্পের মধ্যে কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও আবার ৮০-৯০ শতাংশ কাজ এগিয়েছে। তবে বর্তমানে যে ৭টি প্রতিষ্ঠানের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে, সেগুলি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের পক্ষ থেকে এবং সংশ্লিষ্ট জেলার ডোমা অফিসাররা স্কুল শিক্ষা দফতরকে একাধিকবার চিঠি পাঠালেও কোনও সাড়া মেলেনি। জানা গেছে, স্কুল শিক্ষা দফতরের সচিবাকেও একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। তবুও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
সম্পূর্ণ হওয়া ৭টি স্কুলের অবস্থান হল—
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লক
পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা-৩ ব্লক
পাঁশকুড়া মিউনিসিপ্যালিটি এলাকা
পাঁশকুড়ার কনকপুকুর
মালদার চাঁচল-১ ব্লক
মালদার কালিয়াচক-১ ব্লকের আলিনগর
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-১ এবং পূর্ব বর্ধমানের মন্তেস্বর ব্লক
পিডব্লিউডি এই ভবনগুলি তৈরি করে শিক্ষা দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি আদেশ জারি হয়নি। ফলে জেলাস্তরের আধিকারিকরাও ধন্দে রয়েছেন, কবে এই স্কুলগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, স্কুল শিক্ষা দফতর দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানগুলি অধিগ্রহণ করলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পড়ুয়াদের জন্য ইংরেজি শিক্ষার সুযোগ ব্যাপকভাবে বাড়বে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও আধিকারিকরা অপেক্ষা করছেন, কবে শিক্ষা দফতরের হস্তক্ষেপে নতুন এই স্কুলগুলিতে পঠন-পাঠন শুরু হবে।