গাজা পুনর্গঠনে গ্রিসের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, প্রকৌশলী পাঠানোর পরিকল্পনা বিবেচনায় এথেন্স
গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠনে অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে গ্রিস। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গাজায় প্রকৌশলীদের একটি দল পাঠানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে এথেন্স।
খবরে বলা হয়েছে, আগামী সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিসের বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার অংশ হিসেবেই গাজা ইস্যুতে গ্রিসের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে কথা এগোচ্ছে।
ইসরাইলি রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, গাজার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় গ্রিসকে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখতে আগ্রহী তেলআবিব। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী বা সহায়ক কাঠামোর অংশ হিসেবে গ্রিসের উপস্থিতি ইসরাইলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধসংক্রান্ত কোনও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেই, বরং প্রকৌশল বা সহায়তামূলক বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
গ্রিস সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এথেন্স এই ধরনের ভূমিকায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে গ্রিসের। এই প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে একটি কৌশলগত ভারসাম্য গড়ে তুলতে চায় এথেন্স।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও গ্রিসের সহযোগিতা শুধু মানবিক বা পুনর্গঠনমূলক নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক এই আলোচনায় প্রভাব ফেলছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে গাজা পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ভূরাজনৈতিক সমীকরণ— সব মিলিয়ে আগামী দিনের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।