Tranding
আর্ন্তজাতিক / September 9, 2025

আফগানিস্তানের ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, দুর্গতদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি জাতিসংঘ

আফগানিস্তানের ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, দুর্গতদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি জাতিসংঘ

জরুরি ভিত্তিতে ১৪০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রয়োজন

বিশেষ প্রতিবেদন - (অনলাইন বঙ্গদর্পণ):আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রকাশের পর জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা এখনো অধিকাংশ দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। তবে জাতিসংঘ ঘোষণা করেছে যে তারা পূর্ব আফগানিস্তানের প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করতে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা “তালেবান” প্রসঙ্গে তাদের আপত্তি দূরে সরিয়ে রাখে।

গত আগস্টের শেষ দিনে আঘাত হানা এ ভূমিকম্প, যা বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে ধরা হচ্ছে, এতে ২,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছে, কারণ তাদের বাড়িঘর ধসে পড়েছে। পরবর্তী ভূমিকম্প ও আফটারশকের কারণে ভূমিধসের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু এবং কেউ কেউ পাকিস্তান ও ইরান থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো আফগান।

জাতিসংঘের আফগানিস্তান বিষয়ক মানবিক সমন্বয়ক ইন্দ্রিকা রাতওয়াত সতর্ক করেছেন যে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার ফলে দুর্গতদের জন্য বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি এমন এক মুহূর্ত যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এবং ইতোমধ্যেই ভীষণ কষ্টভোগ করা জনগণের প্রতি সংহতি প্রদর্শন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর, শীতের ঠান্ডা পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছে যাবে।”

জাতিসংঘ আফগানিস্তানের মানবিক সংকটকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং দুঃখ প্রকাশ করেছে যে প্রধান দাতাদের অনুদান কমে যাওয়ায় (গত বছরের তুলনায় ৩৫% হ্রাস) পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই অনুদান হ্রাসের কারণে একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেছে, যা দূরবর্তী গ্রামে পৌঁছানো সহজ করতো। রাতওয়াত জানান, “কিছু সরকারের ‘তালেবান’ নীতির কারণে এই অনুদান কেটে দেওয়া হয়েছে, তবে আমাদের আহ্বান হলো— মনোযোগটা মানুষের উপর রাখতে হবে।”

৬ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ৪৯টি গ্রামে ৫,২৩০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ৬৭২টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাতিসংঘের দল অধিকাংশ দুর্গম গ্রামে এখনো পৌঁছাতে পারেনি।

জাতিসংঘের আফগানিস্তান অফিসের সমন্বয় কর্মকর্তা শ্যানন ও’হারা জানান, পূর্বাঞ্চলের দুর্গম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো পরিস্থিতি মূল্যায়নকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। ৪৪১টি গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, আফটারশকগুলিও পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, নিকটতম শহর জালালাবাদ থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে (প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে) ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। অনেক ট্রাক ও মানবিক সহায়তা বহনকারী যানবাহনকে একমুখী পাহাড়ি পথে ওঠানামা করতে হয়েছে, যা ভূমিধসে কিছু জায়গায় বড় পাথরে আটকে গিয়েছিল।

খোলা আকাশের নিচে জীবন

তিনি জানান, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি যেতে যেতে ধ্বংসযজ্ঞ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে— পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে, মৃত প্রাণীর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার গাদাগাদি করে তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির ও ঠান্ডার মধ্যে রাত কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, “পরিষ্কার পানির উৎস নেই, স্বাস্থ্যসুবিধা নেই, কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে।” প্রয়োজনীয়তার তালিকায় রয়েছে— বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, তাঁবু, পোশাক— কারণ অক্টোবরের শেষ দিকে শীত মৌসুম শুরু হবে।

ও’হারা সতর্ক করে বলেন, “সময় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো দিনে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত আফটারশক আরও ভয়াবহ ভূমিধস ঘটাতে পারে, যা দুর্গত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করবে।” তিনি যোগ করেন, “বরফ পড়তে শুরু করলে এই উপত্যকাগুলোতে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা যদি এখনই ব্যবস্থা না নেই, তাহলে এই জনগোষ্ঠী হয়তো আগামী শীত বাঁচতে পারবে না।”

তিনি আরও জানান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম তালেবান কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে এবং মানবিক কার্যক্রমে বড় কোনো বাধা আসেনি।

জরুরি ভিত্তিতে ১৪০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রয়োজন

আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রকাশের পর জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা এখনো অধিকাংশ দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। তবে জাতিসংঘ ঘোষণা করেছে যে তারা পূর্ব আফগানিস্তানের প্রায় পাঁচ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করতে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা “তালেবান” প্রসঙ্গে তাদের আপত্তি দূরে সরিয়ে রাখে।

গত আগস্টের শেষ দিনে আঘাত হানা এ ভূমিকম্প, যা বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে ধরা হচ্ছে, এতে ২,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়েছে, কারণ তাদের বাড়িঘর ধসে পড়েছে। পরবর্তী ভূমিকম্প ও আফটারশকের কারণে ভূমিধসের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু এবং কেউ কেউ পাকিস্তান ও ইরান থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো আফগান।

জাতিসংঘের আফগানিস্তান বিষয়ক মানবিক সমন্বয়ক ইন্দ্রিকা রাতওয়াত সতর্ক করেছেন যে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার ফলে দুর্গতদের জন্য বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি এমন এক মুহূর্ত যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এবং ইতোমধ্যেই ভীষণ কষ্টভোগ করা জনগণের প্রতি সংহতি প্রদর্শন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর, শীতের ঠান্ডা পাহাড়ি অঞ্চলে পৌঁছে যাবে।”জাতিসংঘ আফগানিস্তানের মানবিক সংকটকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং দুঃখ প্রকাশ করেছে যে প্রধান দাতাদের অনুদান কমে যাওয়ায় (গত বছরের তুলনায় ৩৫% হ্রাস) পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই অনুদান হ্রাসের কারণে একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেছে, যা দূরবর্তী গ্রামে পৌঁছানো সহজ করতো। রাতওয়াত জানান, “কিছু সরকারের ‘তালেবান’ নীতির কারণে এই অনুদান কেটে দেওয়া হয়েছে, তবে আমাদের আহ্বান হলো— মনোযোগটা মানুষের উপর রাখতে হবে।”

৬ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ৪৯টি গ্রামে ৫,২৩০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ৬৭২টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাতিসংঘের দল অধিকাংশ দুর্গম গ্রামে এখনো পৌঁছাতে পারেনি।

জাতিসংঘের আফগানিস্তান অফিসের সমন্বয় কর্মকর্তা শ্যানন ও’হারা জানান, পূর্বাঞ্চলের দুর্গম এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো পরিস্থিতি মূল্যায়নকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। ৪৪১টি গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, আফটারশকগুলিও পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, নিকটতম শহর জালালাবাদ থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে (প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে) ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। অনেক ট্রাক ও মানবিক সহায়তা বহনকারী যানবাহনকে একমুখী পাহাড়ি পথে ওঠানামা করতে হয়েছে, যা ভূমিধসে কিছু জায়গায় বড় পাথরে আটকে গিয়েছিল।

খোলা আকাশের নিচে জীবন

তিনি জানান, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি যেতে যেতে ধ্বংসযজ্ঞ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে— পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে, মৃত প্রাণীর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার গাদাগাদি করে তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির ও ঠান্ডার মধ্যে রাত কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, “পরিষ্কার পানির উৎস নেই, স্বাস্থ্যসুবিধা নেই, কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে।” প্রয়োজনীয়তার তালিকায় রয়েছে— বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, তাঁবু, পোশাক— কারণ অক্টোবরের শেষ দিকে শীত মৌসুম শুরু হবে।

ও’হারা সতর্ক করে বলেন, “সময় এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো দিনে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি উপত্যকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত আফটারশক আরও ভয়াবহ ভূমিধস ঘটাতে পারে, যা দুর্গত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করবে।” তিনি যোগ করেন, “বরফ পড়তে শুরু করলে এই উপত্যকাগুলোতে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা যদি এখনই ব্যবস্থা না নেই, তাহলে এই জনগোষ্ঠী হয়তো আগামী শীত বাঁচতে পারবে না।”

তিনি আরও জানান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম তালেবান কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে এবং মানবিক কার্যক্রমে বড় কোনো বাধা আসেনি।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.