সম্পাদকীয়: বৈচিত্র্য নীতির ছায়ায় অভিবাসন সংকোচ—ভারতীয়দের জন্য বন্ধ হয়ে গেল গ্রিন কার্ড লটারির দরজা
১৭.১০.২৫, বঙ্গ দর্পণ; সম্পাদক :আবু হানিফা
আমেরিকার ‘ডাইভারসিটি ভিসা লটারি’—যা সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত—তৃতীয় বিশ্বের বহু নাগরিকের কাছে স্বপ্নের জানালা। এই লটারির মূল উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসী সমাজে বৈচিত্র্য আনা, সেই দেশগুলিকে সুযোগ দেওয়া যেখান থেকে কম মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছেন। কিন্তু সেই নীতির বাইরের বাস্তবতায় যখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং অভিবাসন বিরোধী মনোভাব প্রবল হয়ে ওঠে, তখন বৈচিত্র্যের জায়গায় এসে দাঁড়ায় বাছাই।
২০২৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয়দের এই লটারিতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত তাই কেবলমাত্র একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক পদক্ষেপ নয়—এটি আমেরিকার বর্তমান অভিবাসন নীতির রাজনৈতিক রূপরেখারও প্রতিফলন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে অভিবাসন নীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। প্রশাসনের একের পর এক নির্দেশে স্পষ্ট হয়ে উঠছে—বিদেশিদের জন্য মার্কিন স্বপ্ন আজ আগের তুলনায় অনেক কঠিনতর।
সত্যি, পরিসংখ্যান বলছে—২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত থেকে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ আমেরিকায় গিয়েছেন। ফলে আইন অনুযায়ী ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা ও পাকিস্তান এই লটারির যোগ্যতা হারিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই পরিসংখ্যানের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কতটা প্রভাব ফেলছে?
যখন ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মন্তব্যের কারণে ছ’জন বিদেশির ভিসা বাতিল হয়, তখন বিষয়টি কেবল অভিবাসনের সীমা নয়—প্রকাশের স্বাধীনতার সীমানাও স্পষ্ট করে দেয়। এমন একটি সময়ে, যখন বৈশ্বিক সংযোগ আরও গভীর হচ্ছে, তখন আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে এই সংকোচন নতুন দিশার পরিবর্তে এক বিপরীতগামী প্রবণতা সৃষ্টি করছে।
ভারতীয়দের জন্য বিকল্প রাস্তাগুলি যেমন এইচ-১বি ভিসা থেকে গ্রিন কার্ড, বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন বা পারিবারিক স্পনসরশিপ—সব পথেই এখন জটিলতা বাড়ছে। আশ্রয় প্রার্থনার পথ তেমন বাস্তবসম্মত নয়, এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ি এই পথগুলিকে প্রায় অবরুদ্ধ করে দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতি হল, মধ্যবিত্ত বা শিক্ষিত ভারতীয়দের একটি বড় অংশের জন্য আমেরিকান স্বপ্ন এখন হয়ত দীর্ঘসূত্রতা বা অনিশ্চয়তায় মোড়ানো এক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে। গ্রিন কার্ড লটারির দরজা বন্ধ হওয়া মানে শুধুই একটি সুযোগ হারানো নয়—এটি সেই বৃহৎ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়: বৈচিত্র্য আসলে কাদের জন্য?