Tranding

সম্পাদকীয়: গাজায় যুদ্ধবিরতির নামে গণহত্যার বৈধতা

বঙ্গ দর্পণ, ২ নভেম্বর ২০২৫: গাজা আজ আবারও রক্তাক্ত। যুদ্ধবিরতির নামে যে চুক্তি হয়েছিল, তা রক্ষার বদলে যেন আরও এক ভয়াবহ অধ্যায় শুরু করেছে ইসরাইল। প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসছে ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ—শিশু, নারী, বৃদ্ধ—কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সমাজ মুখে মানবাধিকারের বুলি আওড়ালেও বাস্তবে তাদের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট ও নিষ্ক্রিয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান ইস্তানবুলে এক সম্মেলনে যথার্থই বলেছেন—ইসরাইল প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ভয়াবহ রেকর্ড তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি মানার পরিবর্তে তারা যেন পরিকল্পিতভাবে চুক্তি ভঙ্গ করে নতুন করে আগুন জ্বালাচ্ছে। গাজায় স্কুল, মসজিদ, গির্জা, হাসপাতাল—কোনো স্থানই ইসরাইলি বোমা হামলা থেকে রক্ষা পায়নি। অথচ তেল আবিবের সরকার বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে ব্যস্ত। এই নির্লজ্জতা আজ মানবতার ইতিহাসে এক কলঙ্কচিহ্ন হয়ে রইল।

এর চেয়েও ভয়াবহ হলো, ‘অনাহারকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার—এই অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক বিপর্যয়ের আরেক চরম দৃষ্টান্ত। শিশুদের খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা, মানবিক সাহায্য আটকে রাখা—এগুলো কোনো যুদ্ধের কৌশল নয়, বরং এটি প্রকাশ্য গণহত্যা। এমন বর্বরতার নিন্দা জানানোই যথেষ্ট নয়; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন দায়িত্ব, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াসহ মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসন্ন বৈঠক তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এই বৈঠকগুলো কেবল নিন্দা বা বিবৃতি প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তব কোনো পদক্ষেপ দেখা যাবে? গাজার মানুষ এখন আর আশ্বাস চায় না; তারা চায় জীবনের নিশ্চয়তা।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় তুর্কি সেনা উপস্থিতি তারা মানবে না। অর্থাৎ, শান্তির পথে কোনো বাস্তব উদ্যোগকেই তারা সহ্য করতে প্রস্তুত নয়। এই অবস্থায় নীরব থাকা মানে পরোক্ষভাবে হত্যাযজ্ঞে অংশ নেওয়া।

বিশ্বনেতাদের এখন সময় এসেছে দ্বিমুখী নীতি পরিত্যাগ করে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর। যুদ্ধবিরতির নামে গণহত্যা কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না। গাজা আজ শুধু ফিলিস্তিনিদের রক্তে রঞ্জিত নয়, এটি আজ মানবতার বিবেকেরও রক্তক্ষরণ।

গাজাকে বাঁচানো মানে মানবতাকে বাঁচানো। এখনই সময়, আন্তর্জাতিক সমাজকে তার নৈতিক দায়িত্ব পালন করার।

 ছবি: সংগৃহীত 

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.