Tranding

মিসর ও ইসরায়েল গ্যাস চুক্তিতে ভাগ করছে ভূরাজনৈতিক সুবিধা

কায়রো, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজা যুদ্ধকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চললেও, মিসর ও ইসরায়েল যৌথ গ্যাস চুক্তির মাধ্যমে পারস্পরিক ভূরাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করছে।

দুই দেশের মধ্যে গ্যাস সহযোগিতা শুরু হয় ২০০৫ সালে আল-আরিশ–আশকেলন পাইপলাইন প্রকল্পের মাধ্যমে। ২০১২ সালে সিনাই উপদ্বীপে একাধিক হামলার কারণে সরবরাহ বন্ধ হলেও, পরবর্তীতে পুনরায় চালু হয়।

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমান্তের নৈকট্যের কারণে ইসরায়েলি গ্যাসের দাম মিসরের জন্য তুলনামূলকভাবে সস্তা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে, বিশেষ করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন কোম্পানি শেভরন ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাইপলাইন সংস্থার সঙ্গে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে “লেভিয়াথান” ক্ষেত্র থেকে “নিতসানা” পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য।

যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি মিসরের সঙ্গে গ্যাস চুক্তি নবায়ন না করার ঘোষণা দিয়েছেন, মিসরের তথ্য সংস্থা এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই “লাভজনক ও প্রয়োজনীয় কৌশলগত সম্পর্ক”। মিসর বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা পূরণে ইসরায়েলি গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভর করছে, কারণ ২০২১ সালের পর থেকে তাদের গ্যাস উৎপাদন ৭.২ থেকে ৫.৬ বিলিয়ন কিউবিক ফিটে নেমে এসেছে।

ইসরায়েলি জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, গ্যাস তাদের জন্য “কৌশলগত সম্পদ” এবং মিসরের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তি “ইসরায়েলের উপর আঞ্চলিক নির্ভরতা প্রমাণ করে”।

তবে, বিশ্লেষকরা মনে করেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে মিসরকে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস মজুতের ব্যবস্থা নিতে হবে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.