নাইল নদীর বন্যা আশঙ্কায় সতর্কতা জারি: মিশরের একাধিক প্রদেশে বাড়িঘর খালি করার নির্দেশ
কায়রো,মিশরে নাইল নদীর জলে হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) মনুফিয়া ও বেহেইরা প্রদেশের প্রশাসন নদীর তীরবর্তী "তরহ আল-নাহর" (طرح النهر) অঞ্চলে বসবাসরত বাসিন্দাদের বাড়িঘর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।
মিশরের পানি সম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে সব এলাকা সম্প্রতি প্লাবিত হয়েছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে নদীর স্বাভাবিক বন্যাপ্রবণ এলাকা, যেখানে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে জলস্তর বাড়লে নদী ওই জমিগুলো আচ্ছাদিত করে। তবে অবৈধ বসতি ও চাষাবাদ বৃদ্ধির ফলে এবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।
মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো “প্রদেশ ডুবে গেছে” এমন খবরকে অস্বীকার করে বলেছে, “বিষয়টি সীমিত, কেবল কিছু নদীপাড়ের জমি প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
কায়রো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এ বছরের নাইল বন্যার পেছনে ইথিওপিয়ার “একতরফা ও অবিবেচনাপ্রসূত” সেচ ব্যবস্থাপনা দায়ী, বিশেষত “গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD)” থেকে অনিয়ন্ত্রিত পানি নিঃসরণের কারণে।
গত মাসে ইথিওপিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বাঁধটির উদ্বোধন করে, যা নিয়ে মিশর ও সুদানের আপত্তি রয়েছে। মিশর আগেই জানিয়েছিল, জলবণ্টন নিয়ে কোনো বাধ্যতামূলক চুক্তি ছাড়া এই প্রকল্প তার “অস্তিত্বের জন্য হুমকি”।
প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা মাদবুলি বৃহস্পতিবার জানান, অক্টোবরে জলের পরিমাণ গড়ের চেয়ে বেশি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মনুফিয়ার কিছু এলাকায় বাড়িঘর ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সংসদ সদস্য আহমেদ হেগাজি বলেন, “বন্যা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, প্রশাসনের প্রস্তুতি যথেষ্ট।”
মিশরের সেচ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আসওয়ান হাই ড্যাম দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রধান সুরক্ষা হিসেবে কাজ করছে।
জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ আহমেদ ফাওজি দিয়াবের মতে, সাম্প্রতিক প্লাবনের পেছনে রয়েছে অতিবৃষ্টির পাশাপাশি ইথিওপিয়ার সেচ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম। তিনি জানান, ইথিওপিয়া প্রতিদিন প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি ছেড়ে দিচ্ছে, যা বন্যা তীব্রতর করেছে।