দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত এড়াতে মিশরের তৎপরতা বৃদ্ধি
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার উদ্যোগ।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু রোধে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করেছে মিশর। মিশরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আশারকুল আওসাত-কে জানান, কায়রো বর্তমানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
রবিবার কায়রোতে অনুষ্ঠিত হয় মিশর-লেবানন যৌথ উচ্চকমিটির দশম বৈঠক, যার নেতৃত্বে ছিলেন মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি ও লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম। বৈঠকে উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেয়।
মাদবুলি বৈঠকে ইসরায়েলকে আহ্বান জানান, তারা যেন লেবাননের অভ্যন্তরে দখলকৃত পাঁচটি সীমান্ত অঞ্চল থেকে অবিলম্বে সরে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি মিশরের গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান রাশাদ বৈরুত সফর করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, মিশরের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীলতা পরিকল্পনা প্রণয়ন হচ্ছে, যার আওতায় ইসরায়েল ওই পাঁচটি এলাকা থেকে প্রত্যাহার করবে এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে।
তবে মিশরের ওই কর্মকর্তা জানান, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা নয়, বরং লেবাননের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মিশরের অব্যাহত প্রচেষ্টা।
২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষের পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। যদিও ইসরায়েল এখনও দক্ষিণ লেবাননের কিছু স্থানে অবস্থান করছে এবং সময় সময় হামলা চালাচ্ছে।
মিশর জানিয়েছে, তারা লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রতি অটল এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হয়, যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, ওষুধ ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি। বর্তমানে মিশর ও লেবাননের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সালাম বলেন, “মিশর গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় যেমন সফল হয়েছিল, তেমনি লেবাননেও তাদের রাজনৈতিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”