সাত দিনের মধ্যে এসআইআর শুনানি শেষ করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, মাইক্রো অবজার্ভার সরানোর সিদ্ধান্ত
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত সমস্ত শুনানি ও নথি আপলোডের কাজ আগামী সাত দিনের মধ্যেই শেষ করতে হবে—এমন কড়া নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর সংক্রান্ত অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সঙ্গে কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, শুনানি শেষ হওয়ার পর যে সমস্ত তথ্য ও নথি অনলাইনে আপলোড করা হবে, সেগুলি এবার রাজ্যে নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকেরা ‘সুপার চেকিং’ করবেন। এর পাশাপাশি শুনানিকেন্দ্র থেকে মাইক্রো অবজার্ভারদের সরিয়ে অন্য দায়িত্বে লাগানো হবে।
বৈঠকে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও), নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) এবং সহকারী নির্বাচনী আধিকারিকদের (এইআরও) একাধিক নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী—
শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত বকেয়া শুনানির নোটিস জেনারেট করতে হবে।
যেসব নোটিস এখনও ভোটারদের বাড়িতে পৌঁছয়নি, সেগুলি ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে পাঠাতে হবে এবং তার প্রমাণ বিএলওদের মাধ্যমে অনলাইনে আপলোড করতে হবে।
সব ধরনের শুনানি ও সংশ্লিষ্ট নথি আপলোডের কাজ আগামী সাত দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ করতে হবে।
যেসব মামলার শুনানি আগেই হয়ে গিয়েছে, সেগুলির হাজিরার তথ্য ও ভোটারদের দেওয়া কাগজপত্র ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আপলোড করতে হবে।
আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শুনানিকেন্দ্র থেকে মাইক্রো অবজার্ভারদের সরিয়ে ভোটার তালিকা তদারকির কাজে নিয়োগ করা হবে। তাঁরা রোল অবজার্ভারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
সব জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের নজর রাখতে হবে, যাতে কোনও নিয়ম লঙ্ঘন না হয় এবং প্রতিটি মামলা বিধি মেনে নিষ্পত্তি হয়।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুনানির ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এই দুই জেলা-সহ রাজ্যের সব জেলাকেই আগামী সাত দিনের মধ্যে শুনানি ও নথি আপলোডের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। যদিও শুনানির সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় ১৬ ডিসেম্বর। এর পর শুরু হয় শুনানি পর্ব। খসড়া তালিকা থেকে মোট ১ কোটি ২৬ লক্ষ ১৭ হাজার ৫৫৮ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন রয়েছেন ‘নো-ম্যাপিং’ তালিকায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের কোনও সংযোগ পাওয়া যায়নি, তাঁদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে আরও ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩২ জন ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
—প্রতীকী ছবি।