ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে কলম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ জারি করল ইএলএন
কলম্বিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (ইএলএন) যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির প্রতিবাদে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে তিন দিনের কারফিউ জারির ঘোষণা দিয়েছে। রোববার থেকে এই কারফিউ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ইএলএনের দাবি, তারা যেসব এলাকায় কোকেইন উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, সেসব অঞ্চলে এই কারফিউ আরোপ করা হচ্ছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের বক্তব্যে ‘সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের হুমকি’ রয়েছে, যার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, লাতিন আমেরিকার কোকেইন উৎপাদনকারী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে পড়তে পারে। তিনি সরাসরি কলম্বিয়ার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, দেশটি কোকেইন উৎপাদন করে তা যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায়।
ইএলএন শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘দেশ রক্ষার’ অজুহাতে তারা সামরিক মহড়া চালাবে এবং রোববার গ্রিনিচ সময় রাত ১১টা থেকে বুধবার একই সময় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করবে। তাদের দাবি, বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতেই এই ব্যবস্থা।
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বামপন্থী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা কলম্বিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের নীতি একটি নতুন উপনিবেশবাদী পরিকল্পনার অংশ, যার উদ্দেশ্য লাতিন আমেরিকার প্রাকৃতিক সম্পদ আরও বেশি শোষণ করা।
গবেষণা সংস্থা ‘ইনসাইট ক্রাইম’-এর তথ্যমতে, প্রায় ৫ হাজার ৮০০ সদস্য নিয়ে ইএলএন কলম্বিয়ার এক হাজারের বেশি পৌরসভার মধ্যে ২০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় সক্রিয়। ভেনেজুয়েলা সীমান্তবর্তী কাতাতুম্বো অঞ্চলকে এই গোষ্ঠীর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম কোকা পাতা উৎপাদন ক্ষেত্রগুলোর একটি অবস্থিত।
এদিকে কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ইএলএনের ঘোষণাকে কটাক্ষ করে বলেন, প্রতিবাদ কখনোই গ্রামবাসীদের হত্যা বা তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে করা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, এই সশস্ত্র কর্মসূচি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নয়, বরং মাদক পাচারকারীদের স্বার্থেই কাজ করছে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেসও এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে একে ‘অপরাধমূলক জবরদস্তি’ বলে আখ্যা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী দেশের পাহাড়, বন ও নদী—সব জায়গায় উপস্থিত থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পর ইএলএনই কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সরকারের সঙ্গে প্রায় দুই বছর শান্তি আলোচনা চললেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা ভেঙে যায়। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গোষ্ঠীর ওপর হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বর্তমানে ইএলএনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, কোকেইন পাচার, অবৈধ খনন, তেল চুরি এবং মুক্তিপণের জন্য অপহরণের মাধ্যমেই সংগঠনটি নিজেদের অর্থায়ন করে।