জাতিসংঘে এরদোগানের বক্তৃতা: গাজায় ‘প্রতি ঘণ্টায় এক শিশু নিহত’ অভিযোগ
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রجب তাইয়্যেব এরদোগান অভিযোগ করেছেন যে, গত ২৩ মাস ধরে গাজায় “প্রতি ঘণ্টায় একজন করে শিশু নিহত হচ্ছে”।
তিনি বলেন, “গাজায় গণহত্যা চলছে টানা ৭০০ দিন ধরে। মানুষকে খাদ্য থেকে বঞ্চিত করে হত্যা করা হচ্ছে। এই নৃশংসতার কোনো যৌক্তিকতা নেই।” এরদোগান বিশ্ববাসীকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “গাজায় মানবসভ্যতার সবচেয়ে অন্ধকার সময় চলছে। প্রতিটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ধ্বংস করা হচ্ছে। ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, আর নেতানিয়াহু জিম্মিদের প্রতিও কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।” তিনি ইউরোপের মানবিক মূল্যবোধ ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন এবং গাজায় গণহত্যার দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
সিরিয়া প্রসঙ্গেও মন্তব্য
এরদোগান তার ভাষণে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “সিরিয়ার জনগণের ওপর যে অবিচার হয়েছে, তা আসাদ সরকারের পতনের পর শেষ হয়েছে। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ ও সন্ত্রাসমুক্ত সিরিয়ার স্বপ্ন দেখি। সিরিয়ার স্থিতিশীলতা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও জরুরি।”
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রশ্নে কূটনৈতিক গতি
জাতিসংঘ অধিবেশনের প্রাক্কালে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের উদ্যোগে আয়োজিত “নিউইয়র্ক ঘোষণা” ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে সামনে এনেছে। ১৪২টি দেশ এই ঘোষণায় সমর্থন জানিয়েছে। নতুন করে ১০টি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে। মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, এ ধরনের স্বীকৃতি মূলত হামাসকে উৎসাহিত করবে। অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, এই উদ্যোগ কেবল গাজা যুদ্ধ থামানো নয়, বরং বৃহত্তর আরব-ইসরায়েল সংঘাত সমাধানের রূপরেখা।
বিশ্লেষকদের মত
প্যারিস সিটি ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ মোনিক শুমিেলেহ-জন্দ্রো মন্তব্য করেছেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেরিতে এবং অসম্পূর্ণভাবে এসেছে। প্রতীকী স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়। ইসরায়েলের ওপর প্রকৃত চাপ সৃষ্টি করতে হলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন জরুরি।”
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর আহ্বান
প্যারিসে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হালা আবু হাসিরা বলেন, “স্বীকৃতি কেবল প্রথম ধাপ। এখন প্রয়োজন দখলদারিত্ব ও বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করার পদক্ষেপ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি।”
বর্তমানে জাতিসংঘের প্রায় ১৬০টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশ এখনও দ্বিধায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ কি আমেরিকার ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে ফিলিস্তিন প্রশ্নে স্বাধীন অবস্থান নিতে পারবে—এখন সেই প্রশ্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।